৩৩ হাজার টাকার জন্য ব্যবসায়ীর লাশ তিন টুকরা

আপডেট : ১৯ জুন ২০২০, ১১:০৬ পিএম

সোমবার পুলিশ দক্ষিণখানের হাজী মুক্তিযোদ্ধা রোডের কাঁচারাস্তার পাশ থেকে পুলিশ এক ব্যক্তির নাভী থেকে নিচ পর্যন্ত এক টুকরো, নাভী থেকে গলা পর্যন্ত আরেক টুকরো উদ্ধার করে। এই দুই টুকরোই বস্তায় ভরা ছিল।

পরদিন মঙ্গলবার বিমানবন্দর থানার ঈরশাল কলোনি বটতলা পানির পাম্পের সামনের ডাস্টবিনের ভেতর থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে। লাশের তিন টুকরো মেলানোর পর লাশটি ব্যবসায়ী হেলালউদ্দিনের বলে তার বড় ভাই মো. হোজায়ফা শনাক্ত করেন।

ওই ঘটনায় অজ্ঞাতানামা ব্যক্তিদের আসামি করে দক্ষিণখান থানায় হত্যা মামলা করা হয়। থানা পুলিশের পাশপাশি ডিবির উত্তর বিভাগ মামলার তদন্ত শুরু করে।

তদন্তে জানা যায়, দক্ষিণখানের মোল্লারটেকের নিজ বাসায় ডেকে ব্যবসায়ী হেলালউদ্দিনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তার কাছ থেকে ৩৩ হাজার টাকা লুট করে চার্লস রূপম ও তাঁর স্ত্রী শাহিনী আক্তার । পরে লাশ তিন টুকরো করে তা বস্তায় ভরে উত্তরার বিভিন্ন স্থানে ফেলে রাখে তারা।

হেলাল হত্যায় গ্রেপ্তার হওয়া চার্লস রূপমের স্ত্রী শাহিনা আক্তার ওরফে মনি সরকার (১৮) ও তার শাশুড়ি রাশিদা আক্তার (৪৮) আজ শুক্রবার পুুলিশের কাছে ও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব তথ্য দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে উত্তরার প্রেমবাগান ও আবদুল্লাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে লুট করা ৩৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ডিবির উপকমিশনার (উত্তর) মশিউর রহমান বলেন, হেলালউদ্দিনের পূর্ব পরিচিত চার্লস রুপম। চার্লস রুপমের বাসা থেকে যেসব স্থানে লাশের টুকরো ফেলে দেওয়া হয়েছে সেসব স্থানের ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার (সিসি) ফুৃটেজ বিশ্লেষণ করে ও হেলালের ফোনের কল তালিকার সূত্র ধরে ডিবি চার্লসের স্ত্রী শাহিনা ও তার মাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর তারা হেলালউদ্দিনকে হত্যার কথা স্বীকার করে।

ডিবির ওই কর্মকর্তা জানান, পুলিশের কাছে ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে শাহীনা ও তার মা জানান, হেলালের ব্যবসা ভালো চলছিল। রূপমের হেলালকে খুন করে তার কাছ থেকে টাকা লুট করার ফন্দি আটে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী রোববার দুপুরে চার্লস রুপম একটি ফটোকপিয়ার মেশিন ৩৩ হাজার টাকায় হেলারের কাছে বিক্রি করবে বলে তাকে তার মোল্লারটেকের বাসায় ডেকে আনেন। একপর্যায়ে সেখানে ঘুমের বড়ি মিশ্রিত চা খাওয়ালে হেলাল অচেতন হয়ে পড়েন। এরপর চার্লস রুপম ও তার স্ত্রী ডিশ সংযোগের তার গলায় পেঁচিয়ে হেলালকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে লাশ বাথরুমে নিয়ে তিন টুকরো করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত