ব্যাংককে আয় বাড়ানোর পরামর্শ বিডব্লিউএবির

আপডেট : ২১ জুন ২০২০, ০৭:২৫ এএম

বেতন-ভাতা কমানোর চিন্তা থেকে বেরিয়ে ব্যাংকের ব্যয় কমানো ও আয় বাড়ানোর বাস্তবভিত্তিক পন্থা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে ব্যাংকারদের নিয়ে গঠিত সংগঠন ব্যাংকার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (বিডব্লিউএবি)।

গতকাল বিডব্লিউএবির প্রেসিডেন্ট কাজী মো. শফিকুর রহমান বিবৃতিতে এ পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, দি সিটি ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও এবি ব্যাংক  কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু বেশির ভাগ বাণিজ্যিক ব্যাংক মনে করে বেতন-ভাতা কমানো করোনাসংকট মোকাবিলার সমাধান হতে পারে না। বেতন-ভাতা কমানোর সিদ্ধান্ত  কর্মকর্তাদের হতাশাগ্রস্ত করবে, তারা কাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন।  ব্যাংক খাতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বিবৃতিতে বিডব্লিউএবি জানায়, করোনা ও অন্য যেকোনো আর্থিক সংকট মোকাবিলায়  কর্মকর্তাদের অনুপ্রেরণা দিতে  পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। যাতে তারা নিশ্চিন্তে ব্যাংকের উন্নয়ন ও গতিশীলতায় যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারে। করোনা মহামারীর শুরুতে সরকারি অফিসগুলোয় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। ব্যাংক কর্মকর্তারা সে সময়ও ডাক্তার এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবাকর্মী, সেনাবাহিনী, পুলিশের মতো প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে সেবা দিয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সূত্রমতে, এ পর্যন্ত করোনায় অন্তত ২০ ব্যাংক কর্মকর্তা মারা গেছেন এবং আনুমানিক ২০০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে ব্যাংক কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা কমানোর সিদ্ধান্ত  অমানবিক হবে বলে মনে করে বিডব্লিউএবি। এ ছাড়া ব্যাংক খাতে কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা কমানোর পদক্ষেপ  অন্যান্য খাতকেও প্রভাবিত করতে পারে। ফলে দেশের অর্থনীতিতে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে, যা কোনো অবস্থায়ই কাম্য নয়। অতএব ব্যাংক কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা কমানোর চিন্তা না করে বাংকগুলোর উচিত অন্যান্য সম্ভাব্য খাতে ব্যয় কমানো ও আয় বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া। এ ক্ষেত্রে বিডব্লিউএবি পরামর্শ দিয়েছে। যেমন সরকার কর্তৃক বাণিজ্যিক ব্যাংকের করপোরেট ট্যাক্স কমানোর ব্যাপারে ব্যাংকগুলোর আবেদন করা। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ব্যাংকগুলোর কনজ্যুমার লোনের ওপর সুদহার কমপক্ষে ২ শতাংশ বাড়ানো। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক অনিরাপদ ব্যক্তিগত ঋণ ও ক্রেডিট কার্ডের শ্রেণিকৃত ঋণের বিপরীতে জেনারেল প্রভিশন ২ শতাংশ নির্ধারণ করা। কোনো ব্যাংকের লোকসান হলে এবং ডিভিডেন্ট করা সম্ভব না হলে পরবর্তী অন্তত দুই বছর ওই ব্যাংকের শেয়ারকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত না করা। তদুপরি পরিচালনা ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে ব্যাংকগুলোর বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়া।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত