করোনার প্রাদুর্ভাবে আতঙ্কে অনেকের অক্সিজেন সিলিন্ডার ও অনুমাননির্ভর ওষুধ মজুদের সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, এমন স্বার্থপর ভাবনার চেয়ে করোনা প্রতিরোধে সচেতন হওয়া জরুরি। গতকাল রবিবার সংসদ ভবন এলাকার সরকারি বাসভবন থেকে ডিজিটাল সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘করোনা মহামারীর উদ্বেগের সময়ে আমরা অনেকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছি। গণমাধ্যমের রিপোর্টে আসছে, অনেকেই আতঙ্কে অক্সিজেন সিলিন্ডার মজুদ করছে। বাসাবাড়িতে অনুমাননির্ভর ওষুধ মজুদ করছেন। এটা অপ্রয়োজনীয় এবং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ছাড়া এ ধরনের সিলিন্ডার এবং অনুমাননির্ভর ওষুধের ব্যবহার হিতে বিপরীত হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অক্সিজেন ব্যবহার ভয়ংকরও হতে পারে।’
এসব প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী মজুদের প্রভাব সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আপনি যে সিলিন্ডার মজুদ করে অলস রেখে দিয়েছেন তার অভাবে মৃত্যুপথযাত্রী কোনো রোগী অক্সিজেন বঞ্চিত হচ্ছে। সিলিন্ডার মজুদ করার মতো স্বার্থপর ভাবনার চেয়ে আমাদের করোনা প্রতিরোধে মনোনিবেশ করা জরুরি। এ জন্য স্বার্থপরতার চেয়ে অজ্ঞতাও অনেক ক্ষেত্রে দায়ী। অনেকে হাসপাতাল সম্পর্কে বিরূপ ধারণা থেকে আগেভাগে এসব সংগ্রহ করে রাখছেন ব্যবহার প্রক্রিয়া না জেনেই। পরিবারের সবাই আক্রান্ত হলে আপনি কী করবেন। তাই আসুন, প্রতিরোধব্যবস্থা জোরদার করি, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি। ঘরে ঘরে সচেতনতা-সতর্কতার দুর্গ গড়ে তুলি। করোনার জন্য অনুমাননির্ভর ওষুধ ও অক্সিজেন মজুদ নয়, সচেতনতা ও সতর্কতা জরুরি।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আপনারা জানেন দেশে রোগীর সংখ্যা এখন অনেক বেশি। ইতিমধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। অনেকে টেস্ট করাতে গিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। কেউ কেউ দীর্ঘ অপেক্ষায় পড়েছেন। অনেক সময় টেস্টের রিপোর্ট পেতেও বেশি সময় লেগে যাচ্ছে, এমন অভিযোগ আছে। আমি সংশ্লিষ্টদের সমন্বয় নীতির মাধ্যমে নমুনা গ্রহণ এবং স্বল্প সময়ে রিপোর্ট প্রদানের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে এ সেবা আরও সহজতর করা এখন সময়ের দাবি।’
বেসরকারি কিছু কিছু হাসপাতাল কভিড রোগীদের সেবায় প্রশংসনীয় কাজ করছে উল্লেখ করে তাদের ধন্যবাদ জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘এখনো অনেক হাসপাতালের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ আছে। অন্যান্য রোগের চিকিৎসাও হচ্ছে না বলে পত্রপত্রিকায় রিপোর্ট আসছে। অনেকে হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরতে ঘুরতে মারা যাচ্ছে। হাসপাতাল মালিক, চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টদের এই কঠিন সময়ে মানবিকতাকে ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। পাশাপাশি যারা নিবেদিতপ্রাণ হয়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন, তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘করোনায় অনেক রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, বুদ্ধিজীবী, বিশিষ্ট ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন, প্রাণ দিয়েছেন কিছু মন্ত্রী-এমপিসহ প্রায় দেড় হাজার মানুষ। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অধিকসংখ্যক মৃত্যুবরণ করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের দলের নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে অসহায় মানুষের পাশে থেকে প্রথম থেকেই সেবা দিয়ে যাচ্ছেন অবিরাম। এ কারণেই অধিক সংখ্যক আক্রান্ত হচ্ছেন আওয়ামী লীগের জনপ্রতিনিধি ও নেতাকর্মীরা। দেশের এই কঠিন সময়ে আওয়ামী লীগই ঝুঁকি নিয়ে সেবা দিচ্ছে এটাই তার প্রমাণ।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দেশের যেকোনো সংকটে মাটি ও মানুষের সংকটে আওয়ামী লীগের সাহসী মুজিব আদর্শের যোদ্ধারা শেখ হাসিনার নির্দেশে ঝাঁপিয়ে পড়ে আর্তমানবতার সেবায়। এবার মানবসেবার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে আওয়ামী লীগ।’
তিনি বলেন, ‘করোনাসংকটে প্রায় সব খাতের ওপর আঘাত এসেছে। বিভিন্ন খাতে ব্যয় কমানোর প্রয়াস লক্ষ করা যাচ্ছে। এ সময় আমাদের সবার দিকে তাকাতে হবে। অন্যান্য খাতের মতো মিডিয়া তথা গণমাধ্যমও চাপে পড়েছে। আমি মালিকদের অনুরোধ করছি, যতদূর সম্ভব সম্মুখ সারির যোদ্ধা সাংবাদিকদের বেতন-ভাতা অব্যাহত রাখুন। পাশাপাশি দেশ ও জাতির এই কঠিন সময়ে গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা স্মরণে নিয়ে বিজ্ঞাপনদাতাদের সাধ্যমতো উদারতা প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছি।’
কলকারখানার মালিকদের শ্রমিক ছাঁটাই না করার অনুরোধ জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এই সময়ে এ ধরনের ছাঁটাই অমানবিক নিষ্ঠুর আচরণের মতোই মনে হবে। সামর্থ্যবান বাড়ির মালিকদের আমি ভাড়াটেদের প্রতি মানবিক হওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। আসুন, যতটা সম্ভব মানবিক আচরণের মাধ্যমে আমরা এই ক্রান্তিকাল অতিক্রম করি। নিশ্চয় আল্লাহ আমাদের সহায় হবেন।’
