মানুষ বিপদের হাতছানি দেখেও সেদিকেই এগিয়ে যায়। যেমন ভবিষ্যতে পানির অভাব অবশ্যম্ভাবী জেনেও আমরা পানি অপচয় করে চলেছি। তবে নেদারল্যান্ডসের হাইড্রালুপ নামের এক কোম্পানি পানি সংরক্ষণের এক অভিনব প্রযুক্তি বাজারে এনেছে। এই যন্ত্রের মাধ্যমে জামাকাপড় কাচার জন্য পুনর্ব্যবহৃত পানি ব্যবহার করা হবে। যন্ত্রটির নামও রাখা হয়েছে হাইড্রালুপ। নতুন ধরনের এই ওয়াশিং মেশিনে সংসারের ব্যবহৃত পানি ঢালা হয়। সেই পানি পরিশোধন করা হয়।
হাইড্রালুপ কোম্পানির দাবি, এই প্রযুক্তির গ্রাহকদের ৪৫ শতাংশ কম পানি প্রয়োজন হয়। এই প্রণালী ব্যবহারের সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইয়ান-ভিলেম নামের এক গ্রাহক বলেন, সন্তানসহ এখানে বসবাস করতে এসে আমাদের মনে হলোÑ যখন আমরা আর থাকব না, তখন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কীভাবে পৃথিবীটাকে আরও ভালোভাবে রেখে যেতে পারব? তখন মনে হলো, আমাদের ‘স্মার্ট’ হয়ে আগে থেকেই ভাবনাচিন্তা করতে হবে।
ডয়েচে ভেলের খবরে বলা হয়েছে, হাইড্রালুপ নামের বিকেন্দ্রীভূত পানি পুনর্ব্যবহার প্রণালীতে ফিল্টারের বদলে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ছয়টি ধাপে পানি পরিশোধন করা হয়। এর ডিজাইনার আর্টকু ফলকিসার বলেন, ‘আমরা শাওয়ার থেকে এবং কখনো ওয়াশিং মেশিন থেকে পানি সংগ্রহ করি। তারপর সাবান, চুল, বালু ইত্যাদি সরিয়ে সেই পানি পরিশোধন ও জীবাণুমুক্ত করি। তারপর ওয়াশিং মেশিন, টয়লেটের ফ্ল্যাশ ও বাগানে আবার ব্যবহার করা যায়।
তবে সেই পানি মোটেই পানের যোগ্য নয়। ফলকিসার বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, টয়লেট ফ্ল্যাশ করার জন্য যথেষ্ট রিসাইকেলড পানি আছে কিনা, এলইডি আলো তা দেখিয়ে দেয়। আমি যখন ফ্ল্যাশ করি নিচের ট্যাঙ্ক থেকে সেই পানি আসে। সেই পানি কমে গেলে আলো নীল হয়ে যায়। তখন সাধারণ পানি ব্যবহার করতে হয়।
তিনি জানান, ইউরোপ ছাড়াও দক্ষিণ আফ্রিকা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই প্রণালী বিক্রি হচ্ছে। এই যন্ত্র পুরনো বাড়িঘরেও বসানো যায় অথবা নতুন প্রণালীর অংশ হিসেবে কাজে লাগানো যায়। ফলকিসার এই ব্যবসা আরও বাড়াতে চান। তিনি বলেন, এর পরের পর্যায়ে আমরা ভারত, বাংলাদেশের মতো দেশের কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে যৌথ উদ্যোগে অনেক কম দামে এই প্রণালী উৎপাদন করতে চাই।
