পদ্মার ভাঙনের ঝুঁকিতে গোয়ালন্দের ২ ইউনিয়ন

আপডেট : ২৬ জুন ২০২০, ১০:১৫ এএম

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউনিয়নে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি ও স্রোতের কারণে ভাঙন ঝুঁকিতে পড়েছে হাজার হাজার পরিবার। প্রতি বছরই নদীর কূলে বসবাসরত মানুষগুলো ভাঙনের সম্মুখীন হলেও এবার বর্ষা মৌসুম শুরুর প্রথম দিকেই রয়েছেন আতঙ্কে।

এরই মধ্যে ভাঙন শুরু হয়ে গেছে। ভাঙন শুরু হলেও তা ঠেকাতে এখন পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো পদক্ষেপই গ্রহণ করেনি। নদী ভাঙন রোধে কোনো অগ্রিম পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নদী পাড়ের হাজারো মানুষ ও জনপ্রতিনিধিরা।

জানা যায়, গোয়ালন্দে গত এক দশকের নদী ভাঙনে সর্বশান্ত হয়ে ভূমিহীনে পরিণত হয়েছে হাজার হাজার পরিবার।

এ সকল পরিবার উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অন্যের সামান্য জমি বছর চুক্তিতে ভাড়া নিয়ে কোনমতে মাথা গুঁজে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। তাদের দুঃখের দিন শেষ না হলেও থামেনি পদ্মার ভয়াবহ ভাঙন। প্রতিদিন একটু একটু করে পদ্মায় হারিয়ে যাচ্ছে গোয়ালন্দের মানচিত্র।

নদী ভাঙনের শিকার ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ভাঙন রোধে অগ্রিম কোনো ব্যবস্থাই গ্রহণ করে না পানি উন্নয়ন বোর্ড। যখন ভাঙনের তীব্রতা চরম পর্যায়ে চলে যায় তখন নামমাত্র ভাঙনরোধ করার ব্যর্থ চেষ্টা চালায় তারা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভাঙন রোধের সেই কাজের গুণগত মান নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন।

সরেজমিন দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ছাত্তার মেম্বার পাড়া, নতুনপাড়া, ব্যাপারী পাড়া, লালুপাড়া, মুন্সীপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, নদীর পাড়ের ভাঙন শুরু হয়েছে। চোখের সামনেই নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে বসতভিটা ও ফসলি জমি। হুমকিতে রয়েছে বিভিন্ন স্থাপনা। অনেকেই নিজেদেরকে রক্ষা করার জন্য অন্যত্র চলে যাচ্ছেন।

image

ছাত্তার মেম্বারপাড়ার বাসিন্দা আজহার পাটোয়ারি (৭০) ও সিদ্দিক পাটোয়ারি (৪২)  বলেন, প্রতি বছরই নদী ভাঙে। তবে এবার বর্ষা মৌসুম শুরুর প্রথম দিকেই ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পেতে হলে এখনই জরুরি ভিত্তিতে কাজ করা প্রয়োজন।

একই পাড়ার জহিরের স্ত্রী মাজেদা বেগম (৫৫) বলেন, রাতে ঘুমাতে পারি না। শুধু চিন্তা এই বুঝি স্বামীর ভিটে বাড়িটা নদীতে খেয়ে ফেলল। ঘুম থেকে জেগেই বসে থাকি নদীর পাড়ে।

দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. আতর আলী খাঁ বলেন, গতবারের ভাঙনে আমাদের এই গ্রামের বেশির ভাগ অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। আমার বাড়ি থেকে নদী অল্প কয়েক গজ দূরে, ভাঙন শুরু হলে এবার আর এখানে থাকতে পারবো না।

দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. কাশেম খান বলেন, এই ইউনিয়নের প্রায় ৬০০ পরিবার ঝুঁকিতে রয়েছে। আমি সরকারের কাছে দাবি করছি এ সকল পরিবারগুলোকে রক্ষা করার জন্য যত দ্রুত সম্ভব উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য।

দেবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম বলেন, আমার ইউনিয়নেই প্রায় ১৫০০ পরিবার রয়েছে নদী ভাঙনের হুমকিতে। গত বছর তিনটি ইউনিয়নের ৩০০ পরিবার নদী ভাঙনে বিলীন হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে বার বার প্রশাসনকে নদী শাসনের কাজ করার জন্য আবেদন করলেও কোনো ফল পাচ্ছি না।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবায়েত হায়াত শিপলু বলেন, নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে যারা রয়েছে তাদের একটি নামের তালিকা তৈরি করার জন্য স্ব স্ব ইউপি চেয়ারম্যানদেরকে বলা দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া ভাঙন রোধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অনুরোধ করা হয়েছে।

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, ভাঙন রোধে আপাতত অগ্রিম কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়। তবে দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটের উজানে কাজের জন্য ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ও ৬ মিটার জিও টিউব খুব দ্রুতই ফেলানো হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত