কুড়িগ্রামে ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি

আপডেট : ২৬ জুন ২০২০, ০৫:০৬ পিএম

কুড়িগ্রামে সতর্কীকেন্দ্রের বন্যার পূর্বাভাসের আগেই বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে ব্রহ্মপুত্র ও ধরলা নদীর পানি। তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধিও অব্যাহত রয়েছে। কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে বইছে বানের পানি। ভাসিয়ে দিয়েছে তীরবর্তী গ্রাম ও চরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চল। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ৮ উপজেলার অন্তত ৩০ হাজার মানুষ। প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা।

এসব অঞ্চলে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। তলিয়ে গেছে চরাঞ্চলের মৌসুমী ফসল ও সবজি ক্ষেত। এসব অঞ্চলের মানুষ কলাগাছের ভেলা এবং স্থানীয় নৌকায় করে উঁচু জায়গায় আশ্রয় নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।  

এদিকে করোনায় কর্মহীন মানুষের মরার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দেখা দিয়েছে বন্যা আর নদী ভাঙ্গন। তিস্তা, ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের ভাঙ্গনে এ পর্যন্ত ৩ শতাধিক বাড়ি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড কুড়িগ্রামের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্র জানায়, শুক্রবার বিকাল ৩ টায় চিলমারী পয়েন্টে  বিপৎসীমার ৯ সেন্টিমিটার, ও ধরলা নদীর পানি ধরলা ব্রীজ পয়েন্টে ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তিস্তার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে বলেও জানানো হয়।

ব্রহ্মপুত্রের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল, আসাম সংলগ্ন সীমান্তবর্তী  মেকুরের আলগা গ্রামের পানিবন্দি আক্কাস আরী মোবাইল ফোনে জানান, তার গ্রামসহ দই খাওয়ার চর, আইরমারীর চর, গাঙচিলের চর ও মাঝের আলগা চরের প্রায় ৫ শতাধিক ঘরবাড়ি ২ দিন ধরে পানিতে ডুবে আছে। বিশুদ্ধ পানির সংকটে রয়েছে। অনেকের কাছে চিড়া, মুড়িসহ শুকনো খাবার থাকলেও তা অধিকাংশের ঘরে তা নাই। এই পরিবারগুলো চরে চাষকরা কুমড়া সিদ্ধ, মিষ্টি আলু সিদ্ধ খেয়ে দিন পার করছেন। বাড়ি ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় রান্না-বান্না করাও মুশকিল হয়ে দেখা দিয়েছে।

হাতিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জানান, তার এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ২৪ ঘন্টায় নতুন নতুন এলাকায় পনি ঢুকে পড়ায় কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েে পড়েছে। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে, গাবুরজান, কামারটারি, চর গুজিমারী, চর দাগারকুটি, নীলকন্ঠ, কমদমতলা বাজারের কিছু অংশ।

উলিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আব্দুল কাদের জানান, পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে উপজেলার ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার চরাঞ্চলে তীব্র ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। হাতিয়া, সাহেবের আলগা ও থেতরাই, বজরা ও দলদরিয়া এলাকায় বহু ঘরবাড়ি নদীতে বিলিন হয়ে গেছে। 

উলিপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ৪৮ মেট্রিকটন চাল শুকনা  খাবারের জন্য ৫ লক্ষ টাকা ও শিশু খাদ্যের জন্য বরাদ্দ পাওয়া গেছে। যা এখনো বিলি বন্টন শুরু হয় নাই।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, সবক’টি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র ও ধরলা নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় আগামী ৫/ থেকে ৭ দিন বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। বেশি ভাঙ্গন কবলিত কিছু এলাকায় জিও টেক্সটাইলের বালু ভতি ব্যাগ ও সিসি ব্লক ফেলা হচ্ছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখা জানায়, নয়টি উপজেলায় বন্যা মোকাবিলার জন্য ২৮২ মেট্রিকটন চাউল ও  শুকনো ও শিশু খাদ্যের জন্য ২৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. রেজাউল করিম জানান, বন্যা মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষজনের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত