বিশাল আয়তনের কোনো পাথর সহজেই একটি ফার্মের ক্ষতি করতে পারে। সেই ক্ষতি না হয় একটা সময় পুষিয়ে ওঠা যায়। কিন্তু এমন বিশালাকার পাথরের বৃষ্টি হলে সেই ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা কি সম্ভব হবে! মধ্য কেনিয়ার এক চাষি জেন নাদেরু এমন পরিস্থিতিতে কী হতে পারে তা ভালো করেই জানেন। দেশটিতে প্রতিবছর বর্ষার সময় শিলাবৃষ্টি হয়। কিন্তু যতই দিন যাচ্ছে, শিলাবৃষ্টির আয়তন এতটাই বড় হচ্ছেÑ যা একদিকে প্রাণঘাতী অন্যদিকে ফসলের চূড়ান্ত ক্ষতি করছে।
মধ্য কেনিয়ার অপর চাষি পিটার মুনিউর মতে, ‘এখন আগের মতো নিয়মিত শিলাবৃষ্টি পড়ে না। কিন্তু যখন পড়ে তা আকারে অনেক বড় হয়।’ চলতি বছরের শুরুর দিকে হওয়া শিলাবৃষ্টিতে পিটারের ঘর ধ্বংস হয়ে গেছে। পিটারের মতো আরও অনেক চাষির ঘরবাড়ি ও ক্ষেতের ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। আগে প্রকৃতির বিভিন্ন উপসর্গ দেখে গ্রামের মানুষ শিলাবৃষ্টি হওয়ার সম্ভাব্যতা সম্পর্কে বলতে পারত। কিন্তু এখন তা বলা যায় না। এমনকি যখন বৃষ্টি হওয়ার কোনো কথা থাকে না, তেমন সময়ও শিলাবৃষ্টি হতে দেখা যাচ্ছে কেনিয়ায়।
জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে শিলাবৃষ্টির এই বৈশিষ্ট্য পরিবর্তনের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না তা বলা মুশকিল। তবে কেনিয়ার আবহাওয়া দপ্তরের নির্বাহী প্রধান আলী রামতুর মতে, শিলাবৃষ্টির সঙ্গে অনেকগুলো কারণ জড়িত থাকে; যেমন বিশেষ স্থানের আবহাওয়ায় আর্দ্রতা বৃদ্ধি পাওয়া, বাতাসের চাপ ও তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার মতো ব্যাপার।
নেদারল্যান্ডসের একটি গবেষণা সংস্থার মতে, ২০৫০ সাল নাগাদ শিলাবৃষ্টির কারণে ২৫-৫০ শতাংশ কৃষি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অবশ্য কেনিয়ার জন্য এই কৃষি নষ্ট হওয়ার ভবিষ্যদ্বাণী এখনই অনেকটা দেখা যাচ্ছে। দেশটির কিছু অঞ্চলে প্রতিবছর শিলাবৃষ্টির কারণে ফসলের এমন ক্ষতি হয় যে, বছরের বাকি সময় ওই অঞ্চলের বাসিন্দাদের বেশ কষ্টে দিন কাটাতে হয়। রামতুর ভাষায়, ‘ঋতুচক্র এখন অনিয়মিত হয়ে গেছে। এই অনিয়মিত বৃষ্টি, বন্যা, শিলাবৃষ্টির কারণে মানুষের জীবনযাপন হুমকির মুখে পড়ছে।’ অনেক কৃষক শিলাবৃষ্টির কারণে কৃষিকাজ করা বাদ দিয়েছেন। বিশেষত মধ্য কেনিয়ায় এমন অনেক শস্য উৎপাদন হয় যা দেশটির অন্যত্র হয় না। কৃষকরা কৃষিবিমুখ হয়ে যাওয়ার কারণে ওই শস্য উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। আর এটা এমন এক সমস্যা, যার বিরুদ্ধে সরকার বা মানুষের কিছু করার নেই।
