জলাবদ্ধতা নিরসনে এক সময়ের ঐতিহ্যবাহী গঞ্জেআলী খাল দখলমুক্ত করার কাজ শুরু করেছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন। এখনি পদক্ষেপ না নিলে পুরো খালটি গিলে ফিলতো অবৈধ দখলদাররা- উচ্ছেদ অভিযানে এসে এমন মন্তব্য করেছেন স্থানীয় কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু।
জানা গেছে, শহরের চাষাড়া এবিসি স্কুল থেকে হাজীগঞ্জ কিল্লারপুল পর্যন্ত সিটি কর্পোরেশনের গঞ্জেআলী খাল পরিস্কারের কাজ শুরু করেছে সিটি কর্পোরেশন। স্থানীয় ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকুর নেতৃত্বে রবিবার (২৮ জুন) থেকে গঞ্জেআলী খাল থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ এবং পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম শুরু হয়।
কাউন্সিলর শওকত হাসেম দেশ রূপান্তরকে জানান, এর আগে শ্রমিক দিয়ে কাজ করিয়েছি কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি। এবার খাল পরিষ্কারের কাজটি ভেকু দিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আর কয়েকদিন দেরি হলে পুরো খালটাই গিলে ফেলতো অবৈধ দখলদারেরা।
তিনি আরও বলেন, এই খাল উদ্ধারে এসে স্থানীয় জনসাধারণের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা পাচ্ছি। চাষাড়া থেকে খানপুর পর্যন্ত প্রতিটি এলাকার মানুষ সহযোগিতা করছেন। এক মাস এই অভিযান চলবে। খাল উদ্ধার কার্যক্রম শেষ হলে এই অঞ্চলের জলাবদ্ধতা দূর হবে।
সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা আলমগীর হীরন দেশ রূপান্তরকে জানান, এ কাজটি মাসব্যাপী চলবে। এখানের সবচেয়ে জটিল কাজ হলো নেটটি নিয়ে। এখানে যে নেটটি আছে তা মাত্র তিনদিন আগে লাগানো হয়েছে কিন্তু নতুন নেটটির ব্যাস মাত্র চার ইঞ্চি। নেটটির ব্যাস কম হওয়ায় সামান্য পলিথিন গেলে নেটে আটকে যায় ফলে বেশ সমস্যা। অথচ এখানে কমপক্ষে আট ইঞ্চি ব্যাস বিশিষ্ট নেট লাগানো প্রয়োজন। আরেকটি সমস্যা হলো খালটিতে এতোই ময়লা জমেছে যে খালটির গভীরতা বেশ কমে গিয়েছে। এ খালটির কোনো গভীরতা নেই বললেই চলে। আবার দেখছি অনেকেই খাল বালু দিয়ে ভরাট করে অবৈধভাবে টিনের দোকান বসিয়েছে, অনেকে টিনের বাড়ি তুলেছে। এ অবৈধ বাড়ি ও দোকান এখন উচ্ছেদ করা হচ্ছে।
সিটি কর্পোরেশনের খাল পরিষ্কারের বিষয়ে ‘আমরা খানপুরবাসী সংগঠন ও ফ্রেন্ড ভ্যাটারেন্স’ ক্লাবের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর কবীর পোকন জানান, সিটি কর্পোরেশনের খালটি ভেকু দিয়ে পরিষ্কার শুরু হয়েছে যা মাসব্যাপী চলবে। এ কাজটি সম্পন্ন হলেই উত্তর চাষাঢ়ার পানি কিল্লারপুল পার হয়ে শীতলক্ষ্যা নদীতে গিয়ে নামবে। ফলে চাষাঢ়ায় বিশেষ করে উত্তর চাষাঢ়ায় আর কোনো জলাবদ্ধতা হবে না।
তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনের এ বিশেষ প্রকল্পটি সিটি মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর সম্পূর্ণ তত্ত্বাবধানে, উদ্যোগে, সহায়তায় আমাদের ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু কাজটা করাচ্ছেন।
