জামালপুরে যমুনার পানি কিছুটা কমলেও ব্রহ্মপুত্র, ঝিনাইসহ অন্যান্য শাখা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। ৬ দিন ধরে পানিবন্দি জীবন কাটানোয় দুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট। বেশিরভাগ এলাকাতেই এখনও ত্রাণ পৌঁছেনি বলে অভিযোগ করছেন দুর্গতরা।
বৃহস্পতিবার বিকেলে বিপদসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এদিকে ব্রহ্মপুত্র, ঝিনাইসহ অন্যান্য শাখা নদীর পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। নতুন করে প্লাবিত হয়েছে মাদারগঞ্জ উপজেলার সিঁধূলী ইউনিয়ন। এছাড়াও ব্রহ্মপুত্রের পানি বাড়ায় সদর উপজেলার লক্ষীরচর ও তুলশীরচর ইউনিয়নে ছড়িয়ে পড়ছে বন্যার পানি। জেলার ৭ উপজেলায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ৪ লাখ মানুষ।
একদিকে করোনার প্রভাব অন্যদিন দুর্গত এলাকায় কাজ না থাকয় চরম বিপাকে পড়েছে নিন্ম আয়ের মানুষ। দুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে শুকনো খাবার ও গোখাদ্যের তীব্র সংকট। দুর্গতদের অভিযোগ, এখনও বেশীরভাগ এলাকাতেই পৌঁছায়নি সরকারি ত্রাণ সহায়তা। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গত ২ দিনে নতুন করে কোন ত্রাণ সামগ্রী বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। ফলে দুর্গতদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারন করেছে।
বন্যার পানিতে ডুবে গেছে পাট, আখ, কলা, সবজিসহ অন্তত ১৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল। বন্যার পানিতে ডুবে ও সাপের কামড়ে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৮ জনের।
ইসলামপুরের চিনাডুলি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম জানান, আমার এলাকায় কমপক্ষে ১২ হাজার পরিবারের জন্য ত্রাণ সহায়তা প্রয়োজন। কিন্তু এখন পর্যন্ত যে বরাদ্দ পেয়েছি তা দিয়ে মাত্র এক হাজার পরিবারের মাঝে ত্রাণ সহায়তা দিতে পেরেছি।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা নায়েব আলী জানান, নতুন করে ত্রাণ সামগ্রীর জন্য চাহিদা পত্র পাঠানো হয়েছে। আশা করছি আজকের মধ্যেই বরাদ্দ পাওয়া যাবে। বরাদ্দ পাওয়ার সাথে সাথেই দুর্গত এলাকায় এসব ত্রাণ বিতরণ করা হবে।
