কুড়িগ্রামে খাবার ও সুপেয় পানির সংকট

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২০, ০৭:০৩ পিএম

গত এক সপ্তাহ ধরে কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায়, দুর্ভোগ বেড়েছে প্রায় দেড় লক্ষাধিক বানভাসী মানুষের। বিশেষ করে, চরাঞ্চগুলোর বন্যা কবলিত এলাকার ঘরবাড়ি থেকে পানি নেমে না যাওয়ায় বিশুদ্ধ খাবার পানি ও শুকনো খাবারের সংকট বেড়েই চলেছে।

সরকারিভাবে ত্রাণ তৎপরতা শুরু হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। চারণ ভূমি তলিয়ে থাকায় গবাদি পশুর খাদ্য সংকট নিয়েও বিপাকে পড়েছেন বন্যা কবলিত মানুষজন।

কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন অফিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্র জানায়,  গত ২৪ ঘন্টায় বন্যার পানিতে ডুবে আরো ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে সদর উপজেলার ২ শিশু, চিলমারী উপজেলার ১ শিশু ও ১ বৃদ্ধ, নাগেশ্বরী উপজেলার ১ শিশু ও উলিপুর উপজেলার ১ শিশু রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড কুড়িগ্রামের বন্যা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সুত্র জানায়, ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ৫৩ সেন্টিমিটার, নুনখাওয়া পয়েন্টে ৪৮ সেন্টিমিটার এবং ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে বিপদসীমার ২৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

চিলমারী পয়েন্টে পানি উন্নয়র বোর্ডের পানি পরিমাপক মাহুফুজার রহমান জানান, খুব ধীর গতিতে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি নামছে।

এদিকে, পানি কমার সাথে সাথে বেশ কিছু এলাকায় ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে। উলিপুর উপজেলার বজরা ইউনিয়নের চর বজরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি ভবন তিস্তা নদীর ভাঙ্গনে ও একই উপজেলার হাতিয়ার ইউনিয়নের নয়াদারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি ভবন ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙ্গনে বিলিন হয়ে গেছে। 

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখা জানায়, বৃহস্পতিবার জেলার বেশ কিছু বন্যা কবলিথ এলাকায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাল, ডাল, ভোজ্য তেল, চিড়াসহ একটি প্যাকেজ ত্রাণের প্যাকে বিতরণ করা হয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা দীলিপ কুমার সাহা জানান, জেলার মোট ৫৬ টি ইউনিয়ন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আংশিক ও সম্পুর্ন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে প্রায় ২১ হাজার ঘরবাড়ি। পানিবন্দি রয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ। প্রায় ৭ হাজার হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ৪৩৪ টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। এরমধ্যে আশ্রয় নিয়েছেন ৬ শত৬৫ জন বন্যা কবলিত মানুষজন।

বন্যা কবলিত মানুষজনের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩০২ দশমিক ৭২০ মেট্রিক টন চাল ও ৩৬ লাথ ৬৮ হাজার ৫০০ নগদ টাকা।

এদিকে , সরকারি হিসাবের সাথে জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্যে অনেক ব্যবধান লক্ষ্য করা গেছে। জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্যমতে, জেলার পানিবন্দী মানুষের সথ্যা প্রায় প্রায় দেড় লক্ষাধিক। তাদের অভিযোগ, বন্যার ৬ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো অধিকাংশ দুর্গত মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছানো যায়নি। বরাদ্দ যেটুকু পাওয়া গেছে তা বিভাজন করা হলেও এখনো বিতরণ করা সম্ভব হয় নাই। ফলে মানুষজন পড়েছেন খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত