রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর উৎপাদন বন্ধের পর সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে (পিপিপি) তা ফের চালু হলে সেখানে পুরনো শ্রমিকরা অগ্রাধিকার পাবেন বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী। তিনি বলেন, ‘পাট খাতকে লাভজনক জায়গায় নিয়ে আসতে চেষ্টা করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত সরকার পাটশিল্পকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে। বর্তমান সরকার এ শিল্পকে লাভজনক করতে শ্রমিকদের গোল্ডেন হ্যান্ডশেক সুবিধার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা শ্রমিকের অবজ্ঞা চাই না, তাদের পুনর্বাসন চাই।’
গতকাল শুক্রবার শ্রমিকদের ‘শতভাগ’ পাওনা বুঝিয়ে দিয়ে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণার বিষয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, ‘বছরের পর বছর লোকসান গুনতে হতো পাটকলে। এর আগে টেক্সটাইল লোকসানে ছিল, পিপিপির আওতায় দেওয়ার পর সেগুলো লাভে আছে। পাটকলগুলোও পিপিপি করা হচ্ছে সেই আলোকে। আমরা পিপিপি করছি মানে মালিকানা চলে যাবে না। এখানে অংশীদারিত্ব থাকবে, বাইরের কোনো মালিকানা থাকবে না। আমরা ৬০ বছরের পুরনো মেশিনের স্থলে নতুন মেশিন বসাতে চাই, যার মাধ্যমে উৎপাদন তিনগুণ বেশি বাড়বে। সেখানে আমাদের পুরনো শ্রমিকরা অগ্রাধিকার পাবেন, যারা কাজ করতে চান।’
শ্রমিকদের দেনাপাওনা সময়মতো পরিশোধ শেষে আগামী তিন মাসের মধ্যে আধুনিকভাবে পাটকলগুলো চালু করা হবে উল্লেখ করে পাটমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নিজে পাটকল শ্রমিকদের দায়িত্ব নিয়েছেন। আমি শ্রমিক ভাইদের বলব, যেখানে প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নিয়েছেন সেখানে ভাবার কোনো বিষয় নেই। আপনারা খুবই নিরাপদে আছেন, খুব শান্তিতে থাকবেনÑ এ আমার ধারণা।’
শ্রমিকরা অনেকে দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছেন জানিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকাটাই স্বাভাবিক। অনেকে বলেছেন কী পাব না পাব জানব কীভাবে? চলতি মাসের বেতন এ সপ্তাহের শেষের দিকে আপনাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চলে যাবে। আরও দুই মাস নোটিস পিরিয়ড আছে। পরের মাসের প্রথম সপ্তাহে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা চলে যাবে।’ তিনি বলেন, ‘এরপর বাজেট ক্লিয়ারেন্স হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তিন দিনের মধ্যে তালিকা তৈরি করতে। এর মধ্যে আপনারা (পাটকল শ্রমিকরা) জেনে যাবেন কে কত পাচ্ছেন। সেটা আপনারা অবগত হবেন। সরকারি টাকা, এখানে মাঝখানে কেউ নেই, মাঝখানে কোনো দালাল নেই। যেটা সলিড যেটা আছে, সব সুবিধা-গ্র্যাচুইটি, অবসর সুবিধা, গোল্ডেন হ্যান্ডশেক সেটাও তারা পাবেন। আমরা ২০১৫ সালের মজুরি অনুযায়ী করেছি। ২০১৫ সালের মজুরি না হলে অর্ধেক টাকায় আমরা পারতাম। পাট শ্রমিকদের আমরা কোনোভাবে ঠকাব না এ নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রী আমাকে দিয়েছেন।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান, বস্ত্র ও পাট সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব কেএম আবদুস সালাম এবং পাটকল শ্রমিক নেতারা।
