ওসির বিরুদ্ধে তদন্তে বাধা দেওয়ায় ৪ যুবলীগ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২০, ০২:৫৯ পিএম

নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও বিভিন্ন অভিযোগে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর থানার অফিসার ইনর্চাজ আবু ওবায়েদকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

শুক্রবার রাতে তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। পুলিশের তদন্ত ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়া, সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখানোয় ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়কসহ চার যুবলীগ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

অভিযোগ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সিরাজুল ইসলাম গত ৩০ জুন মৌখিকভাবে আক্কেলপুর থানার অফিসার ইনর্চাজ আবু ওবায়েদ এর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, ঘুষ, মাদক সংশ্লিষ্টতা, সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও ভয়ভীতি দেখানোর ব্যাপারে জয়পুরহাট পুলিশ সুপারের কাছে জানায়।

পরে তিনি গত ১ জুলাই জয়পুরহাট পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাজ্জাদ হোসেন ও সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুস সালাম, ডিএসবি ইন্সপেক্টর কাওসার আলীসহ তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে দেন পুলিশ সুপার।

শুক্রবার সকাল ১০টায় তদন্ত টিম তিলকপুর ইউনিয়ন পরিষদে যায়। তদন্ত চলাকালে তিলকপুর ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান দিপু, যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন, তাদের সহযোগী আরিফুল ইসলাম মানিক, রেজাউল করিম মানিকসহ চার নেতাকর্মীকে পুলিশের তদন্ত কাজে বাধা ও সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখানোর সময় তদন্তস্থল থেকে দুপুরে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে তাদেরকে সরকারি ও তদন্ত কাজে বাধা, সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখানোয় মামলা দিয়ে শনিবারে আদালতে প্রেরণ করা হয়।

এ ব্যাপারে অভিযোগকারী ও তিলকপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সিরাজুল ইসলাম মুঠোফোনে দেশ রূপান্তরকে বলেন, আক্কেলপুর থানার অফিসার ইনর্চাজ আবু ওবায়েদ ঘুষ, দুর্নীতি, মাদক সংশ্লিষ্টতা, সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও ভয়ভীতি ব্যাপারে জয়পুরহাট পুলিশ সুপার বরাবর মৌখিক ও লিখিত অভিযোগ করার পর শুক্রবার ১২টার দিকে তদন্ত চলাকালে ঐ ওসির দালালরা উপস্থিত হয়ে সাক্ষীদের ভয়ভীতি ও আমাকে নানা রকম হুমকি দেয়। তাৎক্ষণিক তদন্ত কর্মকর্তারা তাদের চারজনকে গ্রেপ্তার করে। আমি এখন চরম আতঙ্কের মধ্যে আছি। তাদের দলবল বাহিনী যে কোনো মুহূর্তে আমার ক্ষতি সাধন করতে পারে।

এদিকে গ্রেপ্তারকৃত ৪ জন ইউনিয়ন যুবলীগের নেতাকর্মী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা যুবলীগের সভাপতি সুমন কুমার সাহা।

এ ব্যাপারে আক্কেলপুর থানা অফিসার ইনর্চাজ (ভারপ্রাপ্ত) সেলিম মালিক দেশ রূপান্তকে বলেন, বেআইনি জনতায় দলবদ্ধ হয়ে পথরোধ পূর্বক সরকারি কাজে বাধা দান ও হুমকি প্রদানের অপরাধে তদন্তস্থল থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে শুক্রবার রাতে তাদের বিরুদ্ধে তদন্তকারী কর্মকর্তা কাওসার আলী বাদী হয়ে ওই ৪ জনসহ অজ্ঞাত আরও ৫/৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন এবং শনিবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আক্কেলপুর থানার অফিসার ইনর্চাজ আবু ওবায়েদকে প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সালাম কবির দেশ রূপান্তরকে বলেন, তদন্তস্থলে সরকারি কাজে বাধা ও স্বাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখানোয় তাদেরকে গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জয়পুরহাটের যে কোনো পুলিশ যদি অন্যায়ের সাথে জড়িত থাকেন অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত