ভারতের বাণিজ্য শহর মুম্বাইয়ের ইস্টার্ন এক্সপ্রেস হাইওয়ের পাশেই দাদার পার্সি কলোনি। মুম্বাইয়ে এমন ২৫টি কলোনি রয়েছে যেখানে পারসিয়ানরা বাস করেন। ভারতের সবচেয়ে ধনী সংখ্যালঘু গোষ্ঠী বলা হয় তাদের। কয়েক শতক ধরেই তাদের মুম্বাইয়ে বাস। এই গোষ্ঠীর মানুষ সবাই জরাথ্রুস্টিয়ান ধর্মাবলম্বী। ইহুদি ও খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের মূল্যবোধ ও ধর্মীয় চাপ থেকে মুক্তি পেতে কয়েক শতক আগেই জরাথ্রুস্টিয়ানদের অনেকে তৎকালীন পারস্য ছেড়ে ভারতে চলে আসে।
সপ্তম শতকের দিকে তারা ভারতে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক দিক দিয়ে প্রভাবশালী হয়ে ওঠে। এই গোষ্ঠীর বহু মানুষ ভারতের পশ্চিমাঞ্চালীয় উপকূলীয় এলাকার ব্যাংকার, শীর্ষ ব্যবসায়ী ও প্রকৌশলী। দিন দিন তাদের সংখ্যা কমছে। ১৯৪১ সালের আদমশুমারিতে তাদের সংখ্যা ছিল ১ লাখ। ২০১১ সালের শুমারিতে ৬০ হাজারে নেমে আসে তাদের সংখ্যা। ভারতের পরিসংখ্যান বিভাগের তথ্যানুসারে ২০৫০ সাল নাগাদ তাদের সংখ্যা ৪০ হাজারে নেমে আসবে।
দাদার পার্সি কলোনি ১৮৯০ সালের মাঝামাঝি বসানো হয়। তখন মুম্বাইয়ের বাসিন্দা সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ লাখ। প্লেগের কারণে বহু মানুষের মৃত্যু হলে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য পার্সি কলোনি স্থাপন করে। নিম্নমধ্যবিত্ত পার্সিয়ানদের বসবাসের জন্য প্রকৌশলী ম্যাঞ্চেরজি এদুলজি জোশি ব্রিটিশ কর্র্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন। সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে ব্রিটিশরা জোশিকে ১০৩টি প্লট ৯৯৯ বছরের জন্য লিজ দেয়। জোশির নাতনি জারিন সিএনএনকে বলেন, ‘তার (এদুলজি জোশি) নিয়ম ছিল কোনো ভবনই দুই তলার বেশি উঁচু করা যাবে না। এখানে কোনো বাড়ি বানানোর আগে তিনি রাস্তায় অনেক গাছ লাগান। প্রতিটি রাস্তায় ভিন্ন জাতের গাছ লাগান তিনি।’
কলোনিতে প্রতিটি প্লটের আলাদা আলাদা নাম আছে। যেমন ডিনা হাউজ, রেডিমানি হাউজ ইত্যাদি। পার্সিয়ানরা তাদের পেশা অনুসারে বাড়ির নামাঙ্কন করেন। রেডিমানি যে বাড়ির নাম, সেই বাড়ির সদস্যরা আফিম ব্যবসা করে অর্থ উপার্জন করেছিলেন। দাদার কলোনিতে এখন ১৫ হাজার পারসিয়ানের বসবাস। প্রতিদিন ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কলোনির সদস্যদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ব্যায়ামের নিয়ম আছে। গোষ্ঠী সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে কলোনির অনেক বাড়িই এখন ফাঁকা। কলোনিতে ফাঁকা বাড়িগুলোতে বাস করতে গেলে অনেক টাকা গুনতে হয়। দুই রুমের একটি ফ্ল্যাটের ভাড়া মাসে ১ লাখ ৪৫ হাজার রুপি। পারসিয়ানরা ভারতের মোট জনসংখ্যার ১ শতাংশ হতে পারে, কিন্তু ভারতের শীর্ষ ২০ কোটিপতির মধ্যে চারজন আছেন পারসিয়ান।
