কুয়েতে গ্রেপ্তার এমপি পাপুলের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে সিআইডি

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২০, ০৫:৩৫ এএম

মানব পাচারের অভিযোগে কুয়েতে গ্রেপ্তার লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শহীদুল ইসলাম পাপুলের বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গতকাল সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমন তথ্য জানান সিআইডির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে সব ধরনের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছি। এ ছাড়াও এটি আন্তর্জাতিক একটি ইস্যু। তাই অনেক বিষয় বিবেচনা করে কাজ করতে হচ্ছে। আশা করি শিগগিরই এ বিষয়ে জানাতে পারব।’

রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে গতকাল মূলত লিবিয়ায় মানব পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে জানাতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে সংস্থাটির প্রধান মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘লিবিয়ায় মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত গডফাদাররা নজরদারিতে আছে। পাশাপাশি অন্যান্য দেশে যারা মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত তাদের প্রতিও নজরদারি অব্যাহত রেখেছে সিআইডি।’

তিনি আরও বলেন, ‘মানব পাচারকারীদের বিষয়ে সরকারের দুটি মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে আমরা দুটি তালিকা পেয়েছি। এ ছাড়াও পাচার হওয়া ভুক্তভোগী, তাদের পরিবার ও বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের কাছ থেকে অনেক নাম পাওয়া গেছে। তাদেরও আমরা নজরদারিতে রেখেছি।’

লিবিয়ায় মানব পাচারে জড়িত তিন গডফাদার সম্পর্কে তথ্য-প্রমাণ মিলেছে জানিয়ে এই অতিরিক্ত আইজিপি বলেন, ‘লিবিয়ায় মানব পাচারকারীদের হাতে ২৬ বাংলাদেশি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ১১ জন। এ ঘটনায় জড়িত গডফাদারদের তিনজনের সম্পর্কে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই আমরা কিছু বলতে চাচ্ছি না। মানব পাচারকারী যারা আটক হয়েছে তাদের কাছ থেকেও আমরা অনেক নাম পেয়েছি। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ ছাড়াও আমরা মানব পাচারকারী চক্রের গডফাদারদের সম্পর্কে বিভিন্নভাবে অনুসন্ধান করছি। তাদের গ্রেপ্তার করতে পারলে অবশ্যই সামনে নিয়ে আসব। আমরা আইনি সব প্রক্রিয়া মেনেই কাজ করছি, যাতে গ্রেপ্তারের পর অপরাধীরা কোনো ছাড় না পায়।’

সংবাদ সম্মেলনে সিআইডিপ্রধান আরও বলেন, ‘আমরা মানি লন্ডারিংয়ের মামলার বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছি। প্রথমে প্রাথমিকভাবে অনুসন্ধান করতে হয়, এরপর যে তথ্য পাওয়া যাবে তার ভিত্তিতে মামলা হয়। সেই মামলার তদন্ত সিআইডি বাদী হয়ে করে থাকে। এখন পর্যন্ত আমরা তিন ব্যক্তির নথি খুলেছি। তাদের বিষয়ে তদন্ত চলছে।’

গত ২৮ মে লিবিয়ায় মানব পাচারকারীদের হাতে ২৬ বাংলাদেশি নিহত ও ১২ জন আহত হওয়ার ঘটনায় ৩৮ জনকে আসামি করে গত ২ জুন রাজধানীর পল্টন থানায় একটি মামলা করে সিআইডি। এরপর পুলিশ ও নিহতদের স্বজনরা বাদী হয়ে বিভিন্ন থানায় আরও ২২টি মামলা করে।

পাপুলের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানে না জাতীয় সংসদ : এদিকে সাংসদ পাপুলের গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়ে কুয়েত সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে কোনো তথ্য জানানো হয়নি বলে জানিয়েছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। জাতীয় সংসদের কোনো সদস্য গ্রেপ্তার হলে গ্রেপ্তারকারী কর্র্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিকভাবে স্পিকারকে জানানোর বিধান রয়েছে। কিন্তু মানব ও অর্থ পাচারের অভিযোগে কুয়েতে পাপুলের গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়ে কুয়েত সরকার বা সংশ্লিষ্ট কেউই অফিশিয়ালি কোনো তথ্য দেয়নি বলে গতকাল সোমবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী একটি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

গত ৭ জুন মানব ও অর্থ পাচারের অভিযোগে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পাপুলকে গ্রেপ্তার করে কুয়েতের সিআইডি। জিজ্ঞাসাবাদের পর কুয়েতের সিআইডি স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমকে বলেছে, সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন পাপুল। এই কাজে তাকে ঘুষ, উপহার ও অন্যান্য সুযোগের বিনিময়ে কুয়েতের প্রভাবশালী সরকারি কর্মকর্তারাও সহায়তা করেছেন। পাপুল ও তার কোম্পানির ব্যাংকে জমাকৃত প্রায় ৫০ লাখ কুয়েতি দিনার (প্রায় ১৪০ কোটি টাকা) ফ্রিজ করার জন্য কুয়েতের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অনুরোধ করেছেন দেশটির পাবলিক প্রসিকিউটর। সম্প্রতি কুয়েতের আদালত পাপুলকে ২১ দিনের জন্য জেলে পাঠিয়েছে। কুয়েতের অ্যাটর্নি জেনারেলের নির্দেশে দেশটির কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে বাংলাদেশের এই সংসদ সদস্যকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত