সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের বৈন্যামোড়-রেহাইপুখুরিয়া বাজার সড়কের হুরমুজের বাড়ি সংলগ্ন ব্রিজের দক্ষিণ পাশের সংযোগ সড়কের মাটি বন্যার পানির চাপে ধসে গেছে।
ফলে এ সড়ক দিয়ে অটোসিএনজিসহ সকল প্রকার যানবহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে এলাকাবাসীর যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ ভাঙন ঠেকাতে এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের পাইলিং দিলেও বন্যার পানির প্রবল ধাক্কায় তা রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না।
এ বিষয়ে বাঘুটিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড সদস্য মির্জা মো. সেলিম, ইসমাইল হোসেন, সাইফুল ইসলামসহ অনেকে জানান, এ এলাকার অন্তত ১০টি গ্রামের ২০ হাজার মানুষের যাতায়াতের সুবিধার জন্য গত বছর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের ৩০ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ব্যয়ে রেহাইপুখুরিয়া ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়।
গত কয়েকদিন হল বন্যার পানি কমতে থাকায় ব্রিজটির নিচ দিয়ে প্রবল বেগে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে ব্রিজটির দুই পাশে ২০০ মিটার এলাকাজুড়ে পানির বিশাল ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
এতে ওই ব্রিজের পাশের একটি কাঠ বাগান ও ১০ বাড়িঘর ভাঙনের মুখে পড়েছে। এ ছাড়া ব্রিজটির বেশকিছু স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে।
এ ছাড়া গত বুধবার দুপুরে ব্রীজটির দক্ষিণ পাশের সংযোগ সড়কের মাটি ধসে গিয়ে যানবহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। গ্রামবাসীরা বাড়ি বাড়ি থেকে ১০০টি বাঁশ ও অর্থ সংগ্রহ করে এলাকাবাসীর সেচ্ছাশ্রমে বাঁশের পাইলিং ও বালুর বস্তা ফেলা হলেও পানির প্রবল ধাক্কায় তা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে।
সরকারিভাবে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যে কোন মুহূর্তে ব্রিজটি ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে ওই সড়কে চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত অটোসিএনজি চালক নূর আলম ও সোহেল ফকির জানান, ব্রিজটির সংযোগ সড়ক ভেঙে যাওয়ায় গত ২ দিন ধরে আমাদের গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে আমাদের আয় উপার্জনও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে অর্থাভাবে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছি।
এ বিষয়ে বাঘুটিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল কাহ্হার বলেন, বিষয়টি ইউএনও ও পিআইও মহোদয়কে জানিয়েছি। ওনারা অচিরেই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন।
এ বিষয়ে চৌহালী প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মজনু মিয়া বলেন, ওই ব্রিজের নিচ দিয়ে যে পরিমাণ পানি প্রবাহিত হওয়ার কথা তার চেয়ে ৪ গুণ বেশি পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ব্রিজটি রক্ষায় সরেজমিন পরিদর্শন করে অচিরেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
