এনআইডি জালিয়াতির মামলায় আটক ৪

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২০, ০৯:১৭ পিএম

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের বয়স্ক ভাতার তালিকা অনুমোদন করতে গিয়ে ধরা পড়ে নকল ভুয়া জন্মসনদ, এনআইডি কার্ডসহ নানা ধরনের সনদ । আর সে কাজে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় উপজেলা সমাজসেবা দপ্তরের দু্ই কর্তার।

এ ঘটনার প্রকৃত তথ্য বের করতে  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। এ কমিটি বাঁশখালী উপজেলা ও পৌর সদরের ৭টি কম্পিউটারের দোকানে অভিযান চালায়। এ সময় আটক করা হয় চারজনকে।

আর এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার উপজেলা ভুমি অফিসের পেশকার দেবাশীষ দাশ বাদী হয়ে ৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন । এতে আটক মো. আজিম, মো. বেলাল, জসিম উদ্দিন, জালাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখাানো হয়।  মামলার ৫ আসামির মধ্যে ৪ জন আটক হলেও ১ জন পলাতক রয়েছে ।

জানা যায়, বাঁশখালীতে দীর্ঘদিন থেকে বয়স্কভাতায় নানা অসঙ্গতির অভিযোগ থাকায় চলতি ২০১৯-২০২০ বছরের বয়স্কভাতার তালিকা অনুমোদন করতে গেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তা যাচাই বাচাই করার জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আতিকুর রহমান, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফয়সাল আলম এবং সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ আবু সুফিয়ানসহ ৩ সদস্য করে একটি কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটি কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন কম্পিউটার দোকানে জাল এনআইডি, জন্মসনদ ও বিভিন্ন ধরনের সার্টিফিকেট তৈরিতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের ইউনিয়ন সমাজকর্মী দেলোয়ার হোসেন, নিলকী প্রভা দত্ত ও কারগিরি প্রশিক্ষক জ্যোতি ধর নামে তিন জন সহ আরো বেশ কয়েকজনের সম্পৃক্তার প্রমাণ পাওয়া যায়। 

বাঁশখালী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র জালিয়াতির অভিযোগে ৭টি ব্যবসায়ীক কম্পিউটার দোকানে অভিযান পরিচালনা করে ৫ টি কম্পিউটার জব্দ করেছে । অভিযুক্ত কম্পিউটারগুলোর মধ্যে বিজয় চৌধুরীর ২টি,  শিব্বির আহমদের ১টি, মো. শাহাবুদ্দিনের ১টি এবং মৃদুল দত্তের ১টি কম্পিউটার রয়েছে।

অভিযান পরিচালনা এবং ভুয়া কাগজপত্র পাওয়ার ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আতিকুর রহমান বলেন, প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির আলোকে উপজেলা সদরের সাতটি কম্পিউটারের দোকানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তার মধ্যে পাঁচটি দোকানের কম্পিউটারে জাল কাগজ বানানোর প্রমাণ মিলেছে। তাদের বিরুদ্ধে  বাঁশখালী থানায় ভূমি অফিসের পেশকার দেবাশীষ দাশ বাদী হয়ে মামলা করেছেন।  তাতে ৪ জন আটক এবং ১ জন পলাতক রয়েছে ।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার বলেন, দীর্ঘদিন থেকে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে বয়স্কভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা আত্মসাৎ করাসহ নানা অভিযোগ ছিল। জাতীয় পরিচয়পত্র সহ বিভিন্ন সনদ জালিয়াতি করে যারা এসব কাজ করেছে তাদের মামলাসহ কঠোর শাস্তি পেতে হবে বলে তিনি জানান।  

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত