নীলফামারীতে অপরিবর্তিত রয়েছে বন্যা পরিস্থিতি। শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে তিস্তা নদীর পানি তিস্তা ব্যারাজের নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
শুক্রবার রাত ১০টায় ওই পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমার ৩৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। যা চলতি বছর বর্ষ মৌসুমে রেকর্ড সর্বোচ্চ।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ সূত্র জানায়, গত শুক্রবার রাতে বিপদসীমার ৩৮সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। শনিবার সকাল ছয়টায় কিছুটা কমে বিপদসীমার ২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তবে আবার পানি বেড়ে বিকাল তিনটায় ২৮ সেন্টিমিটার ওপরে উঠে। সন্ধ্যা ছয়টায় পানি আরও বেড়ে বিপদসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। সেখানে নদীর পানির বিপদসীমা ৫২ দশমিক ৬০মিটার।
চলতি বর্ষায় মৌসুমে গত ২০ জুন তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে ২০ সেন্টিমিটার ওপরে ওঠে। এরপর ২৬ জুন দ্বিতীয় দফা এবং ৪ জুলাই তৃতীয় দফা বিপদসীমা অতিক্রম করে ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
এরপর ৬ জুলাই থেকে ১০ জুলাই সকাল ৯টা পর্যন্ত পানি বাড়া-কমার মধ্যে থাকলে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও শুক্রবার সেটি বিপদসীমার ৩৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
শুক্রবার দুপুরে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে রাত ৯টায় ৩৮সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদীর তীরবর্তী ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী ও গয়াবাড়ি ইউনিয়নের তিস্তা নদী বেস্টিত প্রায় ১৫ টি গ্রামের পাঁচ সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়ে।
‘নদীর বানতো থামেইছে না। পানি হু হু করি বাড়ছে তো বাড়ছেই। বানের পানিতে ঘর ভাসি গেইছে। আইত থাকি ঘরত এক হাটু পানি। ছাওয়া দুইটা নিয়া চৌখতি বসি রাত পার করছু। ঘরত হাটুর সমান বানের পানির লাগি রান্না বান্না বন্দ। আইত থাকি ছাওয়া দুইটাক খাওয়ার দিবার পাওনাই। খিদার কষ্ট হামেরা দুইটা মানষি (স্বামী-স্ত্রী) সহ্য করির পারিলেও ছাওয়া দুইটা খাওয়ার কষ্ট সহ্য করির পারেছে না’। গত দুই দিন ধরে পানিবন্দী হয়ে কষ্টের কথাগুলো বলেন, তিস্তা নদীর র্তীরবর্তী নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের পূর্বখড়িবাড়ি গ্রামের মেহের আলী।
পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খাঁন বলেন, শুক্রবার দুপুরের পর তিস্তায় পানি বাড়তে থাকে। রাতে পানি আরও বৃদ্ধি পায়। শনিবার সকালে পানি একটু কমলেও বিকালে বাড়ে। পানি বৃদ্ধি অব্যহত আছে। পানিবন্ধী পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়ার জন্য তিনটি নৌকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
তার ইউনিয়নের ঝাড়শিংহেরশ্বর ও পূর্ব ছাতনাই গ্রামের প্রায় এক হাজার ৪০টি পরিবার বন্যা কবলিত রয়েছে বলে জানান।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, গত শুক্রবার নদীর পানি এ বছরের সর্বোচ্চ বিপদসীমার ৩৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। শনিবার দিনে কিছুটা কমলেও সন্ধ্যায় আবারো বেড়ে ৩৩ সেন্টিমিটার ওপরে ওঠে। নদীর উৎপত্তিস্থল ভারতের সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় নদীর পানি বাড়ছে। ভারতের সেন্টাল ওয়াটার কমিশনের তথ্যমতে ভারতে তিস্তার গজল ডোবার দোমহনি পয়েন্টে শুক্রবারের চেয়ে শনিবার নদীর পানি অনেক বেশি।সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অংশে পানি আরও বাড়বে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে রেখে সতর্কাবস্থায় রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
