লালমনিরহাটে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২০, ০৯:১২ পিএম

ভারী বর্ষন ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে লালমনিরহাটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে । জেলার নদ-নদীর পানি পানিবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। তিস্তার পর এবার ধরলার পানি অস্বাভাবিক হারে বাড়তে শুরু করছে।

সদর উপজেলার মোগলহাটের শিমুলবাড়ি পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে আতংকিত হয়ে পড়ছে লালমনিরহাট শহর ও শহরতলীর লোকজন। ধরলার এমন অস্বাভাবিক পানি বৃদ্বিতে সদর উপজেলার মোগলহাট ও কুলাঘাট ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত  হয়েছে। 

এ দিকে ভারতের গজালডোবা ব্যারেজ থেকে ধেয়ে আসা পানি নিয়ন্ত্রন করতে জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার দোয়ানীতে অবস্থিত দেশের সর্ব বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি গেট খুঁলে দেওয়া হয়েছে।

রবিবার গভীর রাতে লালমনিরহাটের তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও বিকলে ৩টায় তা কমে ২৫ সেন্টিমিটারে দাঁড়িয়েছে। দিনশেষে তা আরো বাড়তে পারে বলে আশংকা করছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাগন। ফলে ব্যারেজের  ভাটিতে থাকা  লালমনিরহাটের আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা ও সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের প্রায় ২৮ হাজার পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।

বানভাসী এসব মানুষের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। গত তিনদিনে এসব এলাকায় সরকারী পর্যায়ে তেমন কোন সাহায্য-সহযোগিতার তৎপরতা চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ বানভাসী মানুষজনের।

আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের হামিজন নেছা (৫৮) বলেন, ‘বাহে গেল বানোত ১০ কেজি চাল পাইছনুং আর এবার কেনবা এলাও কায়ো খবরও নিলে না। হামার যে কি হইবে, আল্লায় জানে। গোবরধন চরের আজিজুল ইসলাম (৬৫) বলেন, তিন দিন থাকি পানিবন্দি হয়া আছি এলাও কায়ও খবরও নিলে না’।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মো. আবু জাফর জানান, পানি আস্তে-আস্তে নামতে শুরু করেছে। পানিবন্দি এলাকার মানুষের জন্য ১২০ মেট্রিক টন জি.আর চাল ও নগদ দুই লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত