মৌলভীবাজারে লাইসেন্স না থাকায় হাসপাতাল বন্ধ

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২০, ০৯:৪৮ পিএম

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় লাইসেন্স না থাকাসহ বিভিন্ন অনিয়মে বেসরকারি হলি লাইফ স্পেশালাইজড হাসপাতালকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেইসাথে হাসপাতালটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটার দিকে বড়লেখা পৌর শহরের দক্ষিণবাজার এলাকায় অবস্থিত আলহাজ্ব শিব্বির ম্যানশনের এই হাসপাতালে অভিযান চালানো হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শামীম আল ইমরান।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রত্নদীপ বিশ্বাস, বড়লেখা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রতন দেবনাথ।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি একজন রোগীর পক্ষে তার স্বজন বেসরকারি এই হাসপাতালটির বিরুদ্ধে যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ করেন। একইসাথে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মোহাম্মদ নুর নবী রাজুকেও অভিযুক্ত করেন। যিনি ওই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মৌসুমী কিবরিয়ার স্বামী। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত হাসপাতালটিতে অভিযান পরিচালনা করেন।

এ সময় দেখা গেছে, হাসপাতালের লাইসেন্স নেই। হাসপাতালে মেয়াদ উত্তীর্ণ রি-এজেন্ট ও সরকারি হাসপাতালের ওষুধ পাওয়া গেছে। হাসপাতালে সেবা কার্যক্রমেরও কোনো মূল্য তালিকা নেই।

 হাসপাতালের অভ্যন্তরে ফার্মেসির ড্রাগ লাইসেন্স নেই। এসব কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। সেই সাথে লাইসেন্স না হওয়া পর্যন্ত হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন থেকে অনুমোদন না নিয়ে বেসরকারি হাসপাতালটির কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। এছাড়া চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত বিল আদায়সহ নানাভাবে হয়রানি করা হতো। এ নিয়ে ভুক্তভোগীরা বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে অভিযোগ দিয়েছেন।

বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শামীম আল ইমরান বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান চালানো হয়। হাসপাতালের লাইসেন্স নেই। অনেকগুলো অনিয়ম পাওয়ায় জরিমানা ও হাসপাতালটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সরকারি ওষুধ কী করে এখানে এসেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত