সংঘর্ষের পর পুরুষশূন্য কুমারখালীর ৩ গ্রাম

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২০, ০৮:১৪ এএম

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষের পর অর্ধসহস্রাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের তিনটি গ্রাম এখন পুরুষশূন্য। আতঙ্কিত ওই এলাকায় চরম সংকট ও নিরাপত্তাহীনতায় এখন নারী ও শিশুরা, ব্যাহত হচ্ছে কৃষিকাজ। দ্রুত এই সংকটময় পরিস্থিতি নিরসনের দাবি ভুক্তভোগীদের।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, গত ৬ জুলাই ওই সংঘর্ষের পর দুই পক্ষের দুটি এবং পুলিশের করা পৃথক মামলায় তিন গ্রামের সব পুরুষ মানুষ (অর্ধ সহস্রাধিক) আসামি। তারা গ্রেপ্তারের ভয়ে বাড়ি-ঘর ছেড়ে মাঠ-ঘাট, ঝোপ-ঝাড়ে আত্মগোপন করে আছে। থমকে গেছে কৃষিভিত্তিক এলাকার স্বাভাবিক কৃষিকাজ। নিরাপত্তাহীনতায় বিপন্নের মুখে বাড়িতে থাকা নারী ও শিশুরা। এমন শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির সমাধানসহ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান এলাকাবাসী।

পান্টি ইউনিয়নের রাজপুর গ্রামের নিহত বিল্লাল হোসেনের (৪৮) ছেলে রহমত আলী বলেন, ‘আমার আব্বা গুলি লাইগি মারা গেছে, অথচ পুলিশ বলচে হার্ট অ্যাটাকে মরেচে। আব্বার লাশও আমাদের কাছে দেয়নি পুলিশ। লাশের গোসল-কাফন ছাড়াই প্যাকেটে ভরে কোনো রকম মাটিচাপা দিয়ে ঢেকে রেখে গেছে পুলিশ। উল্টা আমাদেরই পুলিশ খুঁইজি বেড়াচ্ছে। সঠিক তদন্ত করে হত্যাকান্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’

পুরুষশূন্য রাজাপুর গ্রামে এই প্রতিবেদক গেলে চারদিক থেকে নারী ও শিশুরা বেরিয়ে এসে তাদের আতঙ্ক, শঙ্কা ও দুরবস্থার বিবরণ দিতে থাকেন। কলেজছাত্রী সাজনীন আক্তার বলেন, ‘আপনারা সারা গ্রাম ঘুরে দেখেন। গত ১০ দিন ধরে অভিভাবক ও পুরুষশূন্য গ্রামের মহিলা-শিশুরা কীভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছে? এমন ভীতিকর পরিস্থিতির সমাধান করে আমাদের নিরাপত্তা চাই।’

কুমারখালী থানার ওসি মজিবুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি এখন শান্ত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত