উজানের পাহাড়ি ঢলে আবারও তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তার পানি ক্রমেই বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার তিস্তার নিম্নাঞ্চলগুলো আবারও প্লাবিত হয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় দেশের সর্ববৃহৎ তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এর আগে সকাল ৬টায় বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপর সকাল ৯টায় বিপদসীমার ১৮ সেন্টিমিটার উপর প্রবাহিত হয়। অপরদিকে ধরলার পানি বিপদসীমার ৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি সূত্রমতে, তিস্তা ব্যারাজ রক্ষার্থে ৪৪টি গেট খুলে দিয়ে পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড। তিস্তার পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার। যা বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার) উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এর ৭ দিন আগে তিস্তায় বন্যার পর তৃতীয় দফায় আবারও তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছেন। তিস্তার চর এলাকার লোকজন পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
উজানের পানি ও ভারী বর্ষণের কারণে তিস্তায় দেখা দিয়েছে আবারও বন্যা। ৩০ বছরের রেকর্ড ভেঙে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তখন প্রায় এক লাখ মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এবার যে হারে পানি বৃদ্ধি হচ্ছে তাতে এ দফার বন্যায় নতুন করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গড্ডিমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান জানান, পানি নেমে যাওয়ার ৭ দিন না পেরোতেই মঙ্গলবার সকাল থেকে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী অববাহিকার পরিবারগুলো ফের পানিবন্দি হয়ে পড়ছে।
আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, মঙ্গলবার সকাল থেকেই পানি বাড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে নিম্নাঞ্চলের অনেক বাড়িতে পানি উঠে গেছে।
তিনি আরও বলেন, পানিবন্দি ও ভাঙনের শিকার ৬’শ পরিবারের মাঝে শুকনো খাবারসহ চাল, ডাল, আলু, তেল, লবণসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।
আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন বলেন, তিস্তার পানি নতুন করে আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলায় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত আছে বলেও জানান তিনি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)’র দোয়ানী ডালিয়া’র নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, উজানের ঢলের কারণে তিস্তা নদীর পানি সকাল থেকে বৃদ্ধি পাওয়ায় চর ও উপকূল এলাকার মানুষজন পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
