রূপগঞ্জে জলাবদ্ধতার কবলে জামদানি পল্লী

আপডেট : ২১ জুলাই ২০২০, ০৩:৫৯ পিএম

গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণের কারণে জলাবদ্ধতা চরম আকার ধারণ করেছে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার নোয়াপাড়ার জামদানি পল্লীতে।

জামদানি পল্লী বিসিক কর্তৃপক্ষের গাফলতি, রাস্তাঘাট ভেঙে পড়া, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সঠিকভাবে পানি নিষ্কাশনের পদক্ষেপ গ্রহণ না করার কারণেই জামদানি পল্লীতে জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ বলে জানান তাঁতিরা।

জামদানি পল্লী বিসিকে ৩৭৪টি প্লট রয়েছে বলে জানা যায়। এ প্লটগুলো তাঁতিদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। এখানে তাঁতিরা ঘরবাড়ি নির্মাণ ও তাঁতকল স্থাপন করে বসবাস করেন।

মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণের কারণে জামদানি পল্লী এলাকায় জলাবদ্ধতা চরম আকার ধারণ করেছে। পল্লীর প্রায় প্রতিটি ঘরেই পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। এতে নষ্ট হচ্ছে হাজার হাজার দামের জামদানি ও জামদানির তৈরির তাঁতকল। এছাড়া ঘরের আসবাবপত্র নষ্ট হচ্ছে। ড্রেনের ময়লা পানির সাথে চলে ঘরের ভেতরে চলে যাচ্ছে। জলাবদ্ধতার কারণেই তাঁতিদের তাঁত বুননের কাজ অনেকটা ব্যাহত হচ্ছে। 

image

স্থানীয় তাঁতিরা অভিযোগ করে জানান, ভারী বর্ষণ ছাড়া স্বল্প বৃষ্টিতেই জামদানি পল্লী এলাকায় পানি জমে যায়। গত ৮ বছর ধরেই একই সমস্যায় দিনাতিপাত করছে তারা।

গত এক যুগ আগে জামদানি পল্লীর পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছিল। জমে থাকা পানি ড্রেন দিয়ে শীতলক্ষ্যা নদীতে গিয়ে পড়তো। কিন্তু নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে ড্রেন নির্মাণ করায় এক বছর যেতে না যেতেই ড্রেনটি অনেকটা জরাজীর্ণ হয়ে যায়।

জরাজীর্ণ ড্রেনের কারণে জামদানি পল্লীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা অনেকটা মুখথুবড়ে পড়েছে। সঠিকভাবে পানি নিষ্কাশন হওয়ায় স্বল্প বৃষ্টি হলেই জমে থাকছে পানি দিনের পর দিন। এতে করে সাধারণ মানুষেল ভোগান্তি বেড়েই চলছে।

এছাড়া ড্রেনের ময়লা পানির কারণে ছড়াচ্ছে ডায়েরিয়া, কলেরাসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ। জলাবদ্ধতার কারণে জামদানি পল্লীর তাঁতিদের ভোগান্তি যেন দিন দিন বেড়েই চলছে। তাঁতিরা বারবার জামদানি পল্লী বিসিকের কর্মকর্তাদের বেশ কয়েকবার পানি নিষ্কাশনের করে দেওয়ার কথা বলেও কোনো কাজ হয়নি।      

নোয়াপাড়া মাদক নির্মূল কমিটির সদস্য আয়ুব আলী বলেন, গত একযুগে জামাদানি পল্লীর কোনো উন্নয়নই হয়নি। এক যুগ আগে করা রাস্তাঘাট ভেঙে খানাখন্দ ও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

তাছাড়া ড্রেনের অবস্থা খুব নাজুক। বিসিক কর্তৃপক্ষের গাফলতি ও অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে জামদানির পল্লীর জলাবদ্ধতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমন চলতে থাকলে বাঙালি জাতির সংস্কৃতি কালের বিবর্তণে হারিয়ে যাবে। 

image

তাহীয়া জামদানির মালিক তারিকুল ইসলাম বলেন, অল্প বৃষ্টি হইলেই ঘরের ভেতরে পানি ঢুইকা যায়। করোনার লাইগা তিন মাস লকডাউন ছিল তাই কাজ করবার পারি নাই। ভাবছিলাম সামনের ঈদে খুব ভালা করা কাম কইরা পরিবার লইয়া ঈদ করুম। কিন্তু বৃষ্টির পানি ঘরে ঢুইকা তাঁতকলও ডুইব্বা গেল। অহন আর শাড়িও বুনতে পারুম না। আর বুজি আমাগো ভালা কইরা ঈদ করা অইলো না। আমাগো দুঃখ দেহার কেউ নাই। বিসিকের স্যারেরা আমগো খোঁজও লয় না।     

জামদানি পল্লীর মালিক সমিতির সভাপতি জহিরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, স্বল্প বৃষ্টিতে জামদানি পল্লী এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এ জলাবদ্ধতার কারণে তাঁত বুননের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এতে প্রায় ৫ হাজার তাঁতিকে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

রূপগঞ্জ জামদানী শিল্প বিসিক নগরী কর্মকর্তা শাহজাহান আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, নতুন করে ড্রেন ও রাস্তায় নির্মাণে বিসিক কর্তৃপক্ষের গাফলতির বিষয়টি সঠিক নয়। ২০১৯-২০ অর্থবছরে জামদানি শিল্প বিসিক নগরীতে পানির পাম্পের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে জামদানির পল্লীর রাস্তাঘাট নির্মাণ ও ড্রেনের ব্যবস্থা করা হবে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত