ভোগান্তি ও দুর্ভোগ নিয়েই চলাচল করছে জয়পুরহাট কালাইয়ের তেলিহার-ভাটাহার ও পাইকপাড়া এলাকার কয়েক হাজার মানুষ। যুগের পর যুগ পেরিয়ে গেলেও এই গ্রামের মাটির প্রায় ৪ কি.মি কাঁচা রাস্তাটি এখনো পাকা হয়নি। চাষ করা জমির মতো রাস্তায় চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
চরম দুর্ভোগে স্থবির হয়ে পড়েছে এখানকার জনজীবন। এই এলাকায় রয়েছে কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি ক্লিনিক, কয়েকটি আদর্শ গুচ্ছগ্রামসহ নানা সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও হাট বাজার।
সরকারের ব্যাপক উন্নয়ন থাকলেও এই মাটির রাস্তা পাকা না হওয়ায় স্থানীয়দের অভিযোগের অন্ত নেই এবং ভ্যান, অটোরিকশা ও শ্যালোচালিত ট্রলির চালকরা কর্মের অভাবে দিন পার করছেন।
জয়পুরহাট এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় মোট সড়ক প্রায় ১৮৮৩ কিলোমিটার। তার মধ্যে ৮২২ কিলোমিটার পাকা হয়েছে। বাকি ৯৫৭ কি.মি. রাস্তা কাঁচা আছে।

উপজেলা রোড ৯১ শতাংশ, ৮০ শতাংশ ইউনিয়ন রোড, গ্রামের রোড এ শ্রেণির ৪০ শতাংশ এবং গ্রামের বি শ্রেণির সংখ্যা কম বাস্তবায়ন হয়েছে। বিগত ১৮ অর্থ বছরে ৪৫ কি.মি নতুন রাস্তা পাকা করা হয়েছে এবং প্রায় ৭০ কি.মি ভাঙা রাস্তা সংস্কার করা হয়েছে।
এলাকাবাসী মোসলেম উদ্দীন আক্ষেপ করে বলেন, এই এলাকার রাস্তায় এক কোমর কাদা। আজ ফসল নিয়ে ঘরে আমরা অস্থির। ভ্যান, রিকশা কোনকিছু রাস্তায় বের হতে পারছে না। মেয়ের বিয়ে, তারিখ হয়ে গেছে, বিয়ের লোক এসে বলে এই রাস্তা এমন! আপনারা মানুষ নাকি গরু, তোমাগেরে মেয়েক বিয়ে করা যাবে না।
মোনোয়ার মন্ডল বলেন, আমি একজন অটো চালক, রাস্তার কারণে অটো চালায়বার পারি না। চাল কিনবার পারি না, ডাল কিনবার পারি না, বৌ-বাচ্চা লিয়ে খুব কষ্টে আছি।
মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক গুলসিআরা বেগম বলেন, ‘আমরা বহু কষ্ট করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাই। কিন্তু রাস্তার এ কাদার কারণে বাচ্চারা প্রতিষ্ঠানে আসে না।

এলাকাবাসী তহমিনা, ছানোয়ার হোসেন, আইয়ুব আলীসহ অনেকে বলেন, আমাদের এখানে কয়েকটি কমিউনিটি ক্লিনিক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আদর্শ গুচ্ছগ্রাম, আশ্রয় প্রকল্প আছে। বর্ষার সময় কোনো লোক অসুস্থ হলে আমরা তাকে হাসপাতালে নিতে পারি না। হাসপাতালে পৌঁছার আগে অনেকেই মারা যায়। এই এলাকার সবাই কৃষক মানুষ। ধান বিক্রি করবো বা ভানা-কুটা করে খাইবো, এইও আমাদের যাইবার মতো পথ নাই। তাই সরকারের কাছে আমাদের দাবি এই রাস্তার কাজটা অতি দ্রুত করে দেওয়া হোক।
স্থানীয় উদয়পুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. ওয়াজেদ আলী ঐ এলাকার মানুষদের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, তেলিহার-ভাটাহার ঐ রাস্তার ইতিপূর্বে আইডি ছিল না। কয়েক মাস আগে আইডি হয়েছে। খুব শিগগির কাজ শুরু হবে।
এদিকে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এফ.এম. খায়রুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, তেলিহার-ভাটাহারের পুরো রাস্তাটি আমাদের নয়। এটির কিছু অংশ গাইবান্ধা জেলার মধ্যে। আমাদের জেলার যতটুকু রাস্তা বাকি আছে দ্রুত স্টিমেট করতে বলা হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু করা হবে।
