করোনাভাইরাস মহামারীতে পুরো বিশ্ব বিপর্যয়ের মুখোমুখি হলেও এখন পর্যন্ত এর কোনো টিকা কিংবা প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা করোনার টিকা আবিষ্কারে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি টিকা প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষা শেষ করে তৃতীয় ধাপে প্রবেশ করেছে। জাতিসংঘ বলছে, করোনাভাইরাসের টিকা আবিষ্কারের চেষ্টায় তৃতীয় পর্যায়ে রয়েছে তিনটি প্রতিষ্ঠান।
কভিড-১৯-এর নিষ্ক্রিয় অংশের ওপর ভিত্তি করে একটি টিকা আবিষ্কারের কাজ করছে চীনের কোম্পানি সিনোভেক। প্রথম দফার পরীক্ষাগুলোয় এ টিকাটি বেশ সাফল্য দেখিয়েছে। এখন ব্রাজিল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে কয়েক হাজার মানুষের দেহে টিকাটির তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। শিম্পাঞ্জির শরীরের সাধারণ সর্দি-কাশি তৈরি করে, এমন একটি ভাইরাসের জিনগত পরিবর্তন করে এ টিকাটি তৈরি করা হচ্ছে। টিকাটি করোনাভাইরাসের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং তখন শরীরের ভেতর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বুঝতে পারে যে, কীভাবে করোনাভাইরাসকে আক্রমণ করে পরাস্ত করা যাবে। সম্প্রতি এর গবেষকরা ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকায় তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষা শুরু করেছে। ভারতেও টিকাটির ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরুর প্রক্রিয়া চলছে। প্রথম ধাপের পরীক্ষায় অক্সফোর্ডের এ ভ্যাকসিন নিরাপদ এবং মানুষের শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা উজ্জীবিত করতে পারে বলে প্রমাণিত হয়েছে। প্রায় ১০০ বছরের পুরনো একটি ফুসফুসের টিকা নিয়ে তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষা চালাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার মারডক চিলড্রেনস রিসার্চ ইনস্টিটিউট। এ টিকা যদিও সরাসরি কভিড-১৯ থেকে রক্ষা করে না; কিন্তু শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দিতে পারে।
জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে করোনাভাইরাসের টিকা তৈরি করতে ১৭৩টি উদ্যোগ চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ১৪০টি এখনো মানবদেহে পরীক্ষা শুরু হয়নি। একে বলা হয় প্রি-ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল। বিজ্ঞানীরা এখনো এসব টিকা নিয়ে গবেষণা করছেন, পশু বা প্রাণীর দেহে প্রয়োগ করে কার্যকারিতা যাচাই করছেন। ১৯টি টিকার কার্যক্রম রয়েছে প্রথম পর্যায়ে অর্থাৎ ক্লিনিক্যাল টেস্টিং শুরু হয়েছে। এর ফলে মানুষের ছোট একটি গ্রুপের ওপর টিকাটি প্রয়োগ করে দেখা হয় যে, এটা নিরাপদ কি না। সেই সঙ্গে এটা শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতায় কতটা প্রভাব ফেলে, তাও যাচাই করা হয়। ১১টি টিকা রয়েছে দ্বিতীয় পর্যায়ে, যেখানে এসব টিকা কতটা নিরাপদ, তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে।
