করোনায় মৃত ৯ জনের দাফন করেন চেয়ারম্যান বাবু

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২০, ০৩:৫৪ পিএম

করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে মৃত ব্যক্তিদের মরদেহ দাফন নিয়ে পরিবার-পরিজনেরা যখন পিছু হঠছে, তখনই তাদের দাফনে এগিয়ে আসেন সোনাগাজী উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউজ্জামান বাবু।

দেশে করোনা প্রাদুর্ভাবের পর থেকে মানবসেবায় সক্রিয় থেকে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে এমন ৯ জনের মরদেহ তিনি সশরীরে উপস্থিত থেকে সার্বিক তত্ত্বাবধায়ন করে দাফন করেছেন। মৃতদের শুধু দাফনই করেননি করোনায় আক্রান্তদের ব্যক্তিগত ও সরকারি বরাদ্দ থেকে সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

এত সংখ্যক করোনায় রোগীর মৃতদেহ দাফন করা হলেও তিনি ও তার স্বেচ্ছাসেবী টিমের সদস্যরা করোনামুক্ত রয়েছেন।

করোনায় মৃত ব্যক্তির দাফন নিয়ে অমানবিকতার খবর গণমাধ্যমে বহুবার যেমন শিরোনাম হয়েছে একই সঙ্গে স্বেচ্ছায় লাশ দাফন করে মহামারির এই সময়ে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন অনেকে।

করোনার মহামারির সময়ে তেমনি একজন হলেন সোনাগাজী উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউজ্জামান বাবু।

স্থানীয়রা জানিয়েছে, মহামারি শুরুর পর তিনি করোনায় মৃতদের দাফনের জন্য স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের সমন্বয় করে দাফন টিম ও কবরখোঁড়া টিম গঠন করে এবং আক্রান্তের সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান রবিউজ্জামান বাবু বলেন, দেশে মহামারি করোনা শুরুর পর থেকে নিজের বাবা-মা, ভাই-বোন আত্মীয়-স্বজনের মরদেহ দাফন করতে এগিয়ে আসেনি অনেকেই। ঠিক সেই সময়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অজিত দেবের অনুপ্রেরণায় আমিসহ মতিগঞ্জ ইউনিয়নের একদল স্বেচ্ছাসেবী মরদেহ দাফনে এগিয়ে আসি। আমরা কবর খোঁড়ার জন্য টিম গঠন করি।

তিনি আরও বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাদের পিপিই, মাস্কসহ সব ধরনের উপকরণ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। মৃতদেহ দাফনের সময় আমাদের সহায়তা করেছে ইসলামী ফান্ডেশনের দাফনটিম ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ উপজেলা শাখার দাফন টিম।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়েছেন এমন একাধিক ব্যক্তি জানান, নমুনা পরীক্ষায় পজিটিভ আসার পর থেকে চেয়ারম্যান বাবু আমাদেরকে মানসিক সমর্থন যুগিয়েছেন, সবসময় খোঁজখবর নিয়েছেন। যারা দরিদ্র ছিলেন তাদের ব্যক্তিগত ও সরকারি তরফ থেকে সাহায্য সহযোগিতা করেছেন।

উপজেলায় করোনার ডেঞ্জারজোন হিসেবে পরিচিতি মতিগঞ্জ ইউনিয়ন। পুরো সোনাগাজীতে করোনায় আক্রান্তদের মাঝে মতিগঞ্জ ইউনিয়ের বাসিন্দা ৪৩ জন।

এদের মধ্যে মারা গোছে ৯ জন, সুস্থ হয়েছেন ৩৩ জন, বাকি ২ জন হোমকোয়ারেন্টাইনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার উৎপল দাস জানান, সোনাগাজী এ পর্যন্ত ১৮৩ জন করোনা পজিটিভ হয়েছে। মারা গেছে ১০ জন, সুস্থ হয়েছেন ১৪০ জন, অন্যরা হোম কোয়ারেন্টাইনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত