সবশেষ চব্বিশ ঘণ্টায় ভারতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সাতশোর বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। তাতে বৈশ্বিক মৃত্যুর তালিকায় ফ্রান্সকে টপকে ষষ্ঠস্থানে উঠে এসেছে জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশটি।
কভিড-১৯ নিয়ে শুক্রবার ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য তুলে ধরে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, চব্বিশ ঘণ্টায় দেশটিতে করোনায় ৭৪০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। তাতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ৬০১ জনে।
বৈশ্বিক মৃত্যুর তালিকায় ভারতের উন্নতিতে সপ্তমস্থানে নেমে গেছে ফ্রান্স। পশ্চিম ইউরোপের দেশটিতে মৃত্যুর সংখ্যা ৩০ হাজার ১৮২ জন। মৃত্যুর তালিকায় ভারতের ঠিক ওপরে রয়েছে ইতালি, ৩৫ হাজারের কিছু বেশি।
এই তালিকায় শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্রে মোট মৃত্যু ১ লাখ ৪৭ হাজার ছাড়িয়েছে বলে ওয়ার্ল্ডোমিটারের হিসেব থেকে জানা গেছে। শীর্ষ চারে থাকা বাকি দেশগুলো হলো- ব্রাজিল, ব্রিটেন, মেক্সিকো ও ইতালি।
এদিকে, আক্রান্তের সংখ্যাও ভারতে লাফিয়ে বাড়ছে। সবশেষ চব্বিশ ঘণ্টায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষের শরীরে করোনার সংক্রমণ পাওয়া গেছে বলে দেশটির সরকারি হিসেবে বলা হয়েছে। তাতে মোট আক্রান্ত ১৩ লাখ ছুঁই ছুঁই করছে।
আক্রান্তের বৈশ্বিক তালিকায় আগে থেকেই তৃতীয়স্থানে আছে ভারত। শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্ত ৪১ লাখ ৭০ হাজার ছুঁই ছুঁই। আর ব্রাজিলে আক্রান্ত ২২ লাখ ৯০ হাজারের কাছাকাছি।
বিশেষজ্ঞরা বলছে, ভারতে প্রয়োজনের তুলনায় করোনা টেস্ট অনেক কম হচ্ছে। প্রকৃত অবস্থা সরকারের দেওয়া তথ্য থেকে অনেক ভয়াবহ।
চলতি সপ্তাহে রাজধানীতে দিল্লিতে ভারত সরকারের ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল পরিচালিত এক অ্যান্টিবডি টেস্ট জরিপে দেখা গেছে, সেখানকার বাসিন্দাদের এক-চতুর্থাংশই করোনায় আক্রান্ত। এই হিসেব সরকারের দেওয়া করোনা আক্রান্তের সংখ্যা থেকে প্রায় ৪০ গুণ বেশি!
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে মার্চের শেষ দিকে ভারত জুড়ে লকডাউন আরোপ করে নরেন্দ্র মোদি সরকার। কিন্তু অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে ধীরে ধীরে লকডাউন থেকে সরে আসছে দেশটি। তবে সংক্রমণ বাড়তির দিকে থাকায় নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ করছে বেঙ্গালুরু, পশ্চিমবঙ্গসহ অনেক রাজ্য।
