বেবী মওদুদের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২০, ০৬:৩১ পিএম

করোনা পরিস্থিতিতে সীমিত পরিসরে পালিত হলো সাংবাদিক, নারী অধিকার আন্দোলনের অন্যতম সংগঠন, সাবেক সাংসদ বেবী মওদুদের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী।

শনিবার সীমিত কর্মসূচিতে তাকে স্মরণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা। সকাল বনানী কবরাস্থানে পরিবারের সদস্যরা ফাতেহা পাঠ করে জিয়ারত এবং পুস্পমাল্য অর্পন করা হয়। 

২০১৪ সালের ক্যান্সারের সাথে লড়াই করে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বেবী মওদুদ।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি শিশু সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক কর্মী, নারী নেত্রী ও সচেতন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।

বেবী মওদুদের জন্ম ১৯৪৮ সালের ২৩ জুন কলকাতায়। তার সার্টিফিকেট নাম এ এন মাহফুজা খাতুন। তবে সবার কাছে পরিচিত ছিলেন বেবী মওদুদ হিসেবে। তার বাবা বিচারপতি আবদুল মওদুদ পূর্ব পাকিস্তান হাইকোর্টের বিচারপতি ছিলেন।

বেবী মওদুদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে সন্মানসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ১৯৬৭-৬৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল ছাত্রী সংসদের নির্বাচিত সদস্য ছিলেন। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের আগে তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য ছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময়ে বেবী মওদুদ ঢাকায় কবি সুফিয়া কামালের সঙ্গে থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তায় বিভিন্ন কর্মকান্ডে যুক্ত হন।

শিক্ষাজীবনের শেষ দিকে ১৯৬৭ সালে সাংবাদিকতার পেশার সাথে যুক্ত হন বেবী মওদুদ। তিনি সাপ্তাহিক ললনা, দৈনিক সংবাদ, দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক মুক্তকন্ঠ, দৈনিক আজাদ, গণবাংলা, চিত্রালী, বিবিসি বাংলা বিভাগ ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) বাংলা বিভাগে কাজ করেছেন।

১৯৯৬ সালে বাসসের বাংলা বিভাগ তার নেতৃত্বে চালু হয়। তিনি বাসস বাংলা বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান বার্তা সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া সর্বশেষ তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সোশ্যাল এফেয়ার্স বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে আছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ও তার পরিবার, মনে মনে (ছোট গল্প), শেখ মুজিবের ছে্লে বেলা, গণতন্ত্রের মানসকণ্যা শেখ হাসিনা, দীপ্তর জন্য ভালোবাসা, আমার রোকেয়া, পবিত্র রোকেয়া পাঠ, টুনুর হারিয়ে যাওয়া, দুঃখ-কষ্ট ভালোবাসা, শান্তর আনন্দ, এক যে ছিলো আনু, মুক্তিযোদ্ধা মানিক, কিশোর সাহিত্য সমগ্র, নিবন্ধ সমগ্র ‘অন্তরে বাহিরে’, পাকিস্তানে বাংলাদেশের নারী পাঁচার।

‘দৈনিক বাংলা-টাইমস’ সরকারি ট্রাষ্ট্র থেকে বিলুপ্ত হওয়ার পর ১৯৯৮ সালে বিচিত্রা নতুন কলেবরে শেখ রেহানার সম্পাদনায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বাড়ি থেকে বের হতো। সেখানে বিচিত্রার মূল কর্ণধার ছিলেন বেবী মওদুদ।

নবম জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের নারী সংরক্ষিত আসনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

ঘনিষ্ঠ বান্ধবী হিসেবে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশে ছিলেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে শেখ হাসিনা ও বেবী মওদুদ সহপাঠি ছিলেন।

শহীদ জননী জাহানারা বেগমের নেতৃত্বে যুদ্ধাপরাধীর দাবিতে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আন্দোলনেরও বেবী মওদুদ ছিলেন অগ্রভাগেই। নারী অধিকার আন্দোলনেও তিনি ছিলেন অগ্রভাগের নারী নেত্রী।

‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র গ্রন্থের কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন বেবী মওদুদ করেছেন।

বেবী মওদুদের স্বামী অ্যাডভোকেট মো. হাসান আলী ১৯৮৫ সালে মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে রবিউল হাসান অভী ও শফিউল হাসান দীপ্ত (পটু) সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত