শীতলক্ষ্যার পানি বৃদ্ধিতে বন্যার আশঙ্কা নারায়ণগঞ্জে

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২০, ০৮:১৭ পিএম

নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর পানি বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শহরের ড্রেনের মুখ আর নদীর পানির উচ্চতা কাছাকাছি চলে আসায় অনেক এলাকা থেকে নামছে না পানি।

গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে শীতলক্ষ্যা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে বন্যার আশঙ্কা করছে নগরবাসী।

রোববার সরেজমিনে শীতলক্ষ্যা নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট পরিদর্শন করে দেখা যায় এমন চিত্র। অধিকাংশ জায়গায় নদীর পানি এখন ড্রেনের সঙ্গে মিশে গেছে। যে কারণে কোথাও কোথাও নদীর পানি উল্টো ড্রেন দিয়ে শহরের দিকে প্রবাহিত হয়ে সমান হয়ে যাচ্ছে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শীতলক্ষ্যায় গতি বেড়েছে।

শীতলক্ষ্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে নারায়ণগঞ্জেও। যে কারণে নারায়ণগঞ্জ শহরের পানি নিষ্কাশনের ড্রেন ও শীতলক্ষ্যার পানি এক লেবেলে চলে এসেছে। এমতাবস্থায় শীতলক্ষ্যার পানি না কমে যদি আবারও বৃষ্টি হয় তাহলে নারায়ণগঞ্জে বন্যা হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সবশেষ তথ্য মতে, শীতলক্ষ্যা নদীতে বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টায় শীতলক্ষ্যায় বৃদ্ধি পেয়েছে ৩ সেন্টিমিটার পানি। শীতলক্ষ্যার বিপদসীমা ৫.৫০ মিটার। কিন্তু বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের ওয়েব সাইটে প্রকাশিত সবশেষ তথ্য মতে, এখন শীতলক্ষ্যার পানি ৫.৬০ মিটারে প্রবাহিত হচ্ছে। যা বন্যার সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

শীতলক্ষ্যায় অতি মাত্রায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নারায়ণগঞ্জে বন্যার আশঙ্কা দেখছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। এ জন্য তিনি নারায়ণগঞ্জবাসীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। ২২ জুলাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে তিনি বন্যার আশঙ্কার কথা জানান। পোস্টটিতে তিনি লিখেন, ‘আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন। অতিবৃষ্টির কারণে শহর ও নদীর পানি এক লেবেলে চলে আসছে। তাই শহরের পানি সরতে সময় লাগবে। নগরবাসী দয়া করে ধৈর্য ধরুন।’

এদিকে অতি বৃষ্টির কারণে নারায়ণগঞ্জের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ায় বঙ্গবন্ধু সড়ক, নবাব সলিমুল্লাহ সড়কসহ পুরো শহরে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। কিন্তু দুপুরের পর বৃষ্টি কমে গেলেও পানি নামতে অনেক দেরি হয়। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন হিরণ এ জন্য শীতলক্ষ্যার পানি বৃদ্ধিকে দায়ী করেছেন।

তিনি বলেন, ‘ড্রেনের মুখ পরিষ্কার করে দিয়েছি। কিন্তু এর পরেও পানি যাচ্ছে না। কারণ, শীতলক্ষ্যার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। যে আউটলেট দিয়ে শহরের পানি নদীতে যায় সেই আউটলেট এবং নদীর পানি একবারে ছুঁইছুঁই। একেবারে সমান বলতে পারেন। যে কারণে পানি যেতে দেরি হচ্ছে। ড্রেনগুলো পরিষ্কার আছে। মুখগুলোও খুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নদীর পানি সমান থাকায় পানি যেতে দেরি হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত