সড়কে আশ্রয় নেয়া মানুষ বাড়ছে কুড়িগ্রামে

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২০, ১২:৩৪ এএম

এক মাস ধরে ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায়, জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। এ অবস্থায় জেলার প্রায় সাড়ে তিন শতাধিক চরাঞ্চলের, প্রায় ৩ লক্ষাধিক মানুষ আছেন চরম সংকটে। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশনের অভাবে এবং গবাদি পশু নিয়ে সীমাহীন কষ্টে দিন পার করছেন।

দুর্গম চরাঞ্চলের পরিবারগুলো, যারা এতোদিন কষ্ট করে হলেও  পানিবন্দি অবস্থায় নিজ বাড়িতে ছিলেন, তারা এখন বাধ্য হয়ে ঘর-বাড়ি ছেড়ে উঁচু এলাকায় আশ্রয় নিতে শুরু করেছেন। ফলে প্রতিদিনই উঁচু বাঁধ, পাকা সড়ক ও বন্ধ থাকা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাড়ছে বন্যাদুর্গত মানুষের সংখ্যা। 

উলিপুর উপজেলার ব্রহ্মপুত্রের চরাঞ্চল বেগমগঞ্জ ইউনিয়ের মশালের চর, বালাডোবার চর ও যাত্রাপুর ইউনিয়নের পোড়ার চর ও চর যাত্রাপুরসহ কয়েকটি চরের বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা মূলত ব্রহ্মপুত্রের পানি কমে যাওয়ার আশায় ছিলেন। এজন্য তারা দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে নৌকায় এবং ঘরের ভেতর এক বুক পানিতে মাচা বেঁধে, বসবাস করে আসছিলেন। কিন্ত অন্যান্য বছরের বন্যার রেকর্ড ভেঙ্গে এবার বেশি সময় অতিবাহিত হতে চলেছে। কিন্তু পানি নেমে যাওয়ার কোন লক্ষণ নেই। কষ্ট দিন দিন বেড়েই চলেছিল। এখন বাধ্য হয়ে উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিতে শুরু করেছে। 

ব্রহ্মপুত্রের অববাহিকার চর যাত্রাপুর ইউনিয়নের চর যাত্রাপুরের ইয়াছিন আলী জানান, নদের অববাহিকায় তারা ১০টি পরিবার বসবাস করছিলেন। তারা কষ্ট করেই এতোদিন বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। কিন্তু পানি কমে না। পানিতে ছোট ছোট বাচ্চা, গরু, ছাগল নিয়ে আর কতদিন থাকা যায়। 

এদিকে বন্যা কবলিত চরাঞ্চলসহ উঁচু বাঁধ, পাকা সড়ক ও আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া মানুষজনের এখন একটাই অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানগণ তাদের কোন খোঁজও নিচ্ছেন না। ত্রাণও দিচ্ছেন না। দুর্গত এলাকাগুলোতে সাংবাদিক দেখলে তারা ছবি তুলতে বাঁধা দিয়ে খাদ্য সহায়তা না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

এ ব্যাপারে সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আইয়ুব আলী সরকার ও বেগমগন্জ ইউনিয়নের চেয়ারমম্যান বেলাল হোসেনের সাথে কথা হলে তারা জানান, তাদের ইউনিয়নে যে পরিমাণ বন্যা কবলিত পরিবারের সংখ্যা রয়েছে এবং যে পরিমাণ ত্রাণের চাল বরাদ্দ পেয়েছে তা দিয়ে অর্ধেক পরিবারকেও দেওয়া সম্ভব হয়নি।

জেলা প্রশাসক মো. রেজাউল করিম জানান, জেলার ৯ উপজেলায় বন্যার্তদের জন্য এ পর্যন্ত ১৯০ মেট্রিক টন চাল, ৯ লাখ টাকা, শিশু খাদ্যের জন্য ২ লাখ, গো-খাদ্যের জন্য ৪ লাখ টাকা ও ৮ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। তাদের কাছে আরও ত্রাণের চাল ও টাকা মজুদ আছে। প্রয়োজনে সেগুলোও বিতরণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম জানান, গত ২৪ ঘন্টায় ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানি প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ৭৩ সেন্টিমিটার, নুনখাওয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৬০ সেন্টিমিটার এবং ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে বিপদসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত