কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানি সামান্য কমেছে। রোববার মধ্যরাত থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিতে মানুষের দুর্ভোগ আরও চরমে উঠেছে।
সবচেয়ে বিপদে পড়েছে দিনমজুর শ্রেণির মানুষেরা- হাতে কাজ ও ঘরে খাবার না থাকায়। ত্রাণ সহায়তা না পাওয়ায় চরম খাদ্য কষ্টে ভুগছেন তারা। এতোদিন ধার-দেনা করে একবেলা খেয়ে দিন পার করলেও, এখন কর্জও মিলছে না। দুর্বিষহ দিন পারি দিচ্ছেন জেলার ৯ উপজেলার প্রায় সাড়ে ৩ শতাধিক চরাঞ্চলের আড়াই লক্ষাধিক লক্ষাধিক মানুষ।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন দপ্তর জানায়, গত ২৬ জুন থেকে শুরু হওয়া প্রথম দফার বন্যা ১০ দিন স্থায়ী ছিল। এই বন্যার পানি সরে যেতে না যেতেই গত ১১ জুলাই থেকে দ্বিতীয় দফা বন্যা শুরু হয়েছে। এই বন্যায় জেলার ৭৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫৬ টি ইউনিয়নের ৪৭৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব গ্রামে পানিবন্দী হয়ে আছেন প্রায় ৬২ হাজার ৬৩০ পরিবারের ২ লাখ ৫০ হাজার ৫২০ জনের মতো মানুষ। এ অবস্থায় বাড়িঘর ছেড়ে ১৩২ টি আশ্রয় কেন্দ্র, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও রাস্তায় প্রায় ৫ হাজার পরিবারের ২২ হাজারের মতো মানুষ আশ্রয় নিয়ে আছেন।
এ ছাড়া বন্যায় এ পর্যন্ত ৬২ হাজারের মতো বাড়িঘর কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৪৪টি। সড়ক ৩৭ কিলোমিটার ও বাঁধ ৩২ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ৪১ হাজার ৫৭৯ টি নলকূপ বন্যার পানিতে তলিয়ে আছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আবদুল হাই সরকার জানান, সহায়তায় এ পর্যন্ত ১৯০ মেটি«ক টন জিআর চাল, শুকনা খাবার বাবদ জিআর ক্যাশ ১৩ লাখ টাকা, শিশু খাদ্য বাবদ ৪ লাখ টাকা এবং গো-খাদ্য বাবদ ৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহায়তা হিসেবে ৬ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া দ্বিতীয় দফা বন্যায় পানিতে ডুবে এ পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তার মধ্যে ৮ জনই শিশু।
