করোনামুক্তির পর হাসপাতালে এমপি ইসরাফিলের মৃত্যু

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২০, ০৪:৫১ এএম

নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইসরাফিল আলম মারা গেছেন। গতকাল সোমবার ভোর ৬টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৫৪ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে গত ৬ জুলাই প্রথমে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে তার শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। তিনি হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসসহ নানা শারীরিক সমস্যায়ও ভুগছিলেন। স্কয়ার হাসপাতালে কিছুদিন চিকিৎসা নেওয়ার পর কিছুটা সুস্থ হলে বাসায় আনা হয় এ সংসদ সদস্যকে। গত ১৫ জুলাই দ্বিতীয় নমুনা পরীক্ষায় তার করোনাভাইরাস নেগেটিভ আসে। কিন্তু শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা বেড়ে গেলে ১৭ জুলাই তাকে ফের স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে গত শনিবার সন্ধ্যায় শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে চিকিৎসকরা লাইফ সাপোর্টে রাখেন। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সকালে মারা যান তিনি।

ইসরাফিল আলমের ছোট বোন রুনু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কিছুদিন আগে মা মারা যাওয়ার পর বাড়ি থেকে ফিরেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন ভাই। এরপর করোনা নেগেটিভ হলেও মানসিকভাবে তিনি ছিলেন খুবই দুর্বল।’

ইসরাফিল আলমের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা শোক প্রকাশ করেছেন। শোক বার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘শ্রমিক রাজনীতি দিয়েই তার রাজনীতিতে পদার্পণ। তিনি সংসদে সবসময় খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের কথা তুলে ধরতেন। তার মৃত্যুতে দেশ একজন প্রতিশ্রুতিশীল ও নিবেদিতপ্রাণ রাজনৈতিক নেতাকে হারাল।’ অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তার শোক বার্তায় বলেন, ‘ইসরাফিল আলম তার পুরো জীবন দেশ ও জাতির কল্যাণে উৎসর্গ করেছিলেন।’

এছাড়া জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ সাংসদ ইসরাফিল আলমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

এই রাজনীতিবিদের মরদেহ গতকাল বাদ আসর নওগাঁয় গ্রামের বাড়ি ঝিনা ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মায়ের পাশে দাফন করা হয়েছে।

ইসরাফিল আলম ১৯৬৬ সালের ১৩ মার্চ রানীনগর উপজেলার গোনা ইউনিয়নের ঝিনা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন তৎকালীন ঢাকা মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ইসরাফিল আলম। এরপর ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ এবং একাদশ সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর গত ১০ বছরে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেন তিনি। সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে পরিচিত আত্রাই-রানীনগরে সুস্থ জীবন ধারা ফিরিয়ে আনেন। ইসরাফিল আলম নবম জাতীয় সংসদে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন। বর্তমান সংসদে ওই কমিটির পাশাপাশি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

শ্রমিক নেতা হিসেবে দেশব্যাপী পরিচিত ইসরাফিল আলম। তিতাস কর্মচারী ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের মাধ্যমে রাজনীতি শুরু করেন। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলে তিনি একাধিকবার জেল খেটেছেন। অবিভক্ত ঢাকা মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

ইসরাফিল আলম অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান এবং ফার্স্ট ফাইন্যান্স লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান। বাংলাদেশ জাতীয় পল্লী উন্নয়ন সমবায় ফেডারেশনের পরপর তিনবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত