ট্রাম্পের ১১ দিনের নির্বাচনী কৌশল

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২০, ০৬:৩৪ এএম

করোনাভাইরাস থেকে কবে পৃথিবীর মানুষ মুক্ত হবে তা অনিশ্চিত। বিজ্ঞানীরা এখনো কোনো কার্যকরী সমাধানে পৌঁছতে পারেননি। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টও আর বসে থাকতে চাইছেন না। তিনি আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১০০ দিনের একটি নির্বাচনী কৌশল নিয়ে হাজির হয়েছেন। রিপাবলিকান শিবিরের আশা, ট্রাম্পের এ কৌশল নির্বাচনী হিসাব-নিকাশ পাল্টে দেবে। যদিও দেশটির জরিপকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জরিপ বলছে ভিন্ন কথা। বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষকদের মধ্যে অবশ্য ট্রাম্পের এ পরিকল্পনা বা কৌশল নিয়ে সংশয় রয়েছে। তাদের মতে, গত চার বছরে ট্রাম্প কোনো কৌশল নিয়েই সফল হতে পারেননি, এমন অবস্থায় ঘাড়ের কাছে নির্বাচনী বাস্তবতায় তার নতুন পরিকল্পনা কতটা কার্যকরী হতে পারে তা নিয়ে সংশয়ে আছে। ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলন সব হিসাব পাল্টে দিয়েছে ট্রাম্পের। নির্বাচনে রিপাবলিকান শিবিরের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি ফ্লোরিডাতেই সুবিধাজনক অবস্থানে নেই ট্রাম্প। এবিসি নিউজের সাবেক প্রেসিডেন্ট বেন শেরউড মনে করেন, কৌশল করে নির্বাচনে জেতার বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে সরে গেছেন ট্রাম্প। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ই-মেইলের মাধ্যমে ভোট হতে পারে কি না তা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। অনেকে মনে করছেন, কভিড-১৯ মহামারীর কারণে সবার কাছে, বিশেষ করে যে জনগোষ্ঠীর মধ্যে এর সংক্রমণ মারাত্মক রূপ নিয়েছে, সেই শ্রমজীবী ও সংখ্যালঘুদের ব্যালটপ্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য ই-মেইল ভোট হওয়া দরকার। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ অন্যরা ই-মেইল ভোট পদ্ধতির তীব্র বিরোধিতা করছেন। তারা বলছেন, এ পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ করা হলে ভোট জালিয়াতির ঝুঁকি অনেক বেড়ে যাবে। তবে ট্রাম্প ও অন্যদের এ যুক্তি আসলে আগাগোড়াই ভিত্তিহীন এবং এ যুক্তি নতুন কিছুও নয়। ছয় শতাব্দী ধরে যারা নিজেদের স্বার্থে ভোটারের সংখ্যা সীমিত রাখতে চেয়েছে, তারা বরাবরই নির্বাচনব্যবস্থার ‘সততা’ বা ‘ইন্টেগ্রিটি’ ধরে রাখার অজুহাত দেখিয়ে এসেছে। আমেরিকার বেশিরভাগ মানুষ মনে করে, ই-মেইল ভোট এখন খুবই জরুরি। কিন্তু ট্রাম্প ও কট্টর দক্ষিণপন্থিরা তা চান না। কারণ শ্রমিকশ্রেণি ও আফ্রিকান-আমেরিকান ভোটারদের বেশিরভাগ ডেমোক্রেটিক দলকে সমর্থন করে। কিন্তু ব্যক্তিগত কাজের ব্যস্ততার কারণে তারা ভোট দেওয়ার জন্য ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সুযোগ করে উঠতে পারে না। সব রাজ্যে ই-মেইলের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা চালু হলে তারা ভোট দিতে পারবে। এতে ডেমোক্র্যাটদের জেতার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত