ভূমিদস্যু জালিয়াতির চক্রের হয়রানির অভিযোগ ভূমি মালিকদের

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২০, ১২:৫৮ পিএম

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় চিহ্নিত ভূমিদস্যু জালিয়াতি চক্রের প্রধান জহির হাওলাদারের মিথ্যা ও জালিয়াতি দলিল সৃষ্টি করে প্রকৃত ভূমি মালিকদের হয়রানি করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীরা।

বুধবার বেলা ১১টায় কলাপাড়া রিপোর্টার্স ইউনিটির মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগী নুরুল ইসলাম খান, নুর মোহাম্মদ খান, আবদুল গনি খান, শহিদুল ইসলাম, খলিল মীরসহ ইটবাড়িয়ার অর্ধ শতাধিক বাসিন্দা। এ সময় ভুক্তভোগীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জাকির হোসেন খান তোতা।

লিখিত বক্তব্যে জাকির হোসেন বলেন, ১৯৫২ সনের বাদুরতলী মৌজার এস.এ জরিপ রেকর্ডের সময়ে আ. রহিম খান জরিপ ও দিয়ারা অফিসে এস.এ ৩৯ নং খতিয়ান খোলেন। যার এস.এ দাগ নং-১২০৬, ১২০৯, ১২১০। এই তিনটি দাগের ১.৬৬ একর জমি আ. রহিম খানের নামে এস.এ প্রিন্টে ছাপা হয়, যাহার দৈর্ঘ্য ১০১০ ফুট, প্রস্থ ৭২ ফুট। এই পূর্ণ জমির বুঝ না পাওয়ায় পটুয়াখালী সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে ৩৬৫/২০১২নং মামলা চলমান থাকে।

উক্ত মামলা চলমান অবস্থায় ভবিষ্যৎ শান্তি স্থাপনের জন্য টিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, সদস্য ও স্থানীয় সার্ভেয়ার দ্বারা উভয় পক্ষের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে জমি বুঝাইয়া সীমানা নির্ধারণ করে দেয়া হয়।

জহির হাওলাদার ৩৯ নং খতিয়ানে ৪৩ শতাংশ জমি নিজাম চৌকিদারের মাধ্যমে জোরপূর্বক দখল করে রাখে। ইউপি চেয়ারম্যানের সালিশির রোয়েদাদ অনুযায়ী ৩৯নং খতিয়ানের জমি স্ব-ইচ্ছায় ছেড়ে দেয়ার কথা থাকলেও জোর পূর্ব উক্ত জমি দখল করে আছেন।

জাকির হোসেন খান তোতা আরও বলেন, বাদুরতলী মৌজার এস.এ ১৯২ নং খতিয়ানে রেকর্ডীয় মালিক সেরআলী হাং, যাহার দাগ নং-১২০৬, ১২০৯, ১২১০, উক্ত সেরআলী হাং তাহার ২ পুত্রের নিকট ২-৬৪ একর জমি ২৩/০২/১৬৭৬ তারিখে মো. জহির হাং ও আ. রশিদ হাং এর নিকট ৮২১নং হেবাবেল এওয়াজ দলিল মূলে বিক্রয় করেন।

২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেমবর খেপুপাড়া এস.আর অফিসে রেজি. ৩৪০৯নং সাব-কবলা দলিল মূলে ৩৩ শতাংশ জমি মো. জহির হাং, নিজাম চৌকিদারের নিকট বিক্রয় করেন। ১৩৪ খে/২০০৯-১০ নামজারী করিয়া ৮।

শতাংশ জমি নিজাম চৌকিদার বিক্রি করেন মাসুম বিল্লাহর নিকট। একই তারিখে জহির হাং বিক্রি করেন ৩। শতাংশ, একুনে ০.১১॥ শতাংশ এবং এস.এ ১৯২নং খতিয়ান হইতে নাসির উদ্দিন মোল্লার নিকট ৭ শতাংশ বিক্রি করেন সর্বমোট ৪৩ শতাংশ জমি বিক্রয় করেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, জহির হাওলাদার ও নিজাম চৌকিদারের ইন্ধনে আবু বক্কর ও মাসুদ ফরাজী নতুন ঘর নির্মাণের চেষ্টা চালায়। থানার মাধ্যমে ঘরের নির্মাণ কাজ স্থগিত করা হলে জহির হাওলাদার কলাপাড়া জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (১৮১/২০২০) একটি মিথা চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করে।

জহির হাওলাদার, তার স্ত্রী কানুন বেগমসহ নিজাম চৌকিদার, মন্নান ঘরামী, লতিফ ঘরামী, মতলেব ঘরামী, মনির খান, মাসুদ ফরাজী দালাল চক্রের লোক হওয়ায় তিনি বিভিন্ন সময়ে জাল দলিল সৃষ্টি করে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলাসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছেন।

সম্প্রতি সুবিধা লাভের আশায় সাংবাদিকদের ভুল তথ্য দিয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় আমাদের মানহানিকর সংবাদ প্রকাশ করেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জহির হাওলাদার বলেন, তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। চেয়ারম্যানের সালিশির রোয়েদাদ অনুযায়ী জমি ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তোতা খানের সাথে তার চাচা মনির খানের বিরোধ আমার উপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত