দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেছেন, দেশে বন্যা হওয়ার দীর্ঘ এক মাস হয়ে গেছে কিন্তু কেউ ত্রাণ পায়নি কথাটি সঠিক নয়। হয়তো দুর্গত এলাকা বা অনেক দূরবর্তী এলাকায় ত্রাণ পৌঁছাতে দেরি হতে পারে, পরবর্তীতে সবার মাঝেই ত্রাণ পৌঁছে দেয়া হয়েছে।
এছাড়া না খেয়ে আছে বা না খেতে পেয়ে কষ্ট পেয়েছে এমন রিপোর্ট এখনও আসেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মঙ্গলবার দুপুরে সাভার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেন, দেশের কোনো জেলায় বানভাসিরা ত্রাণ পায়নি এমন নজির নেই। সরকারের পক্ষ থেকে সকল বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।
এই দুর্যোগের সময়েও কোনো মানুষ না খেয়ে নেই। বাংলাদেশ এখন তৃতীয় দফা বন্যা মোকাবিলা করছে জানিয়ে তিনি বলেন, যমুনাসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি হ্রাস পাচ্ছে। আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে এবং গঙ্গা ও পদ্মা নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে।
রাজধানীর ঢাকার আশপাশে বন্যার পানি স্থিতিশীল রয়েছে। এছাড়া আগামী ২৪ ঘণ্টায় নাটোরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হবে বলে জানান তিনি।
এ সময় তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত দেশের ৩৩টি জেলা বন্যা কবলিত হয়েছে এর মধ্যে ২০টি অতি অক্রান্ত জেলায় আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে সবার মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।
এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৫’শ ৮৮টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং সেখানে ৭৭ হাজার সাত’শ ৭৬ জন লোক আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে।
দেশে প্রায় ৪৩ লাখ লোক বন্যাকবলিত হয়েছিল জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে ১৬ হাজার দুই’শ ১০ মেট্রিকটন চাল, চার কোটি ১৪ লাখ পঞ্চাশ হাজার নগদ টাকা, শিশু খাদ্যের জন্য এক কোটি ৩৬ লাখ টাকা, গবাদি পশুর জন্য দুই কোটি ৮৪ লাখ টাকা, গৃহ নির্মাণ বাবদ নয় লাখ টাকা এবং শুকনো খাবারের জন্য এক লাখ ৫৮ হাজার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এ সময় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন সাভার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজীব, ভাইস চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন খান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াসমিন আক্তার সুমি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আরা নীপা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা একরামুল হকসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।
