আবাসিক হোটেল আর নয়

চিকিৎসক-নার্সরা থাকবেন ৬ সরকারি প্রতিষ্ঠানে

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২০, ০৪:৪০ এএম

করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে চিকিৎসাসেবায় সম্পৃক্ত সরকারি চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর জন্য আবাসিক হোটেলের পরিবর্তে সরকারি ছয়টি প্রতিষ্ঠানে আবাসনের ব্যবস্থা করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ৩ আগস্ট স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১ শাখার উপসচিব ডক্টর বিলকিস বেগম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

চিঠিতে এই ৬ প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন একাডেমি), বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ম্যানেজমেন্ট (বিআইএএম), জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমি (এনএপিডি), ন্যাশনাল একাডেমি অব এডুকেশনাল ম্যানেজমেন্ট (এনএইএম), টিচার্স ট্রেনিং কলেজ (টিটিসি) এবং জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউট (এনআইএলজি)। এসব প্রতিষ্ঠানে একজন করে ফোকাল পয়েন্ট নিযুক্ত করা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, এসব স্থানে করোনা চিকিৎসায় সম্পৃক্ত সরকারি চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর চিকিৎসা কাজে নিয়োজিত থাকা অবস্থায় খাবারসহ পৃথক আবাসন সুবিধা প্রদানের নিমিত্তে ফোকাল পয়েন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করে সুবিধা নিশ্চিত করবেন।

উল্লেখ্য, করোনা রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা এত দিন আবাসিক হোটেলে বসবাস করে আসছিলেন। কিন্তু একেকজন চিকিৎসক একেক মানের হোটেলে বাস করার কারণে বিভিন্ন মহলে নানা রকম সমালোচনার জন্ম দেয়। কেউ কেউ হোটেলে না থেকেও হোটেল বিল তুলে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এসব কারণে হোটেলের পরিবর্তে সরকারি ছয়টি প্রতিষ্ঠানে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়। গত ২৯ জুলাই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি হয়।

পরিপত্র জারির পর চিকিৎসকরা একাধারে বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তারা আরাম-আয়েশের জন্য হোটেলে অবস্থান করেননি। জীবন বাজি রেখে করোনা আক্রান্ত রোগীদের সাত দিন চিকিৎসাসেবা প্রদানের পর পরবর্তী দুই সপ্তাহ হোটেলে কোয়ারান্টাইনে ছিলেন।

এদিকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে জানা গেছে, এসব চিকিৎসককে আলাদাভাবে থাকার জন্য ভাড়ার ভিত্তিতে আবাসিক হোটেল ঠিক করা হয়েছিল। কিন্তু হোটেলে থাকার যে বিল আসছে, তাতে করে সরকারের ব্যয় বেশি হচ্ছে। গত এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে কোয়ারেন্টাইন খাতে অর্থ বিভাগ থেকে ছাড় করা অর্থের পরিমাণ ছিল ১০৩ কোটি ৯ লাখ টাকা। এত বিপুল বরাদ্দ সত্ত্বেও সব স্বাস্থ্যকর্মী এর সুবিধা পাননি। এ নিয়ে সমালোচনা হয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ফলে এসব সমস্যার সমাধান করতেই সরকারি ছয় প্রতিষ্ঠানে তাদের থাকার জন্য ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত