কালিগঙ্গায় বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি কৃষিজমি

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২০, ০৮:৪৪ এএম

ঢাকার নবাবগঞ্জের কালিগঙ্গা নদীতে বিলীন হচ্ছে শোল্লা ও কৈলাইল ইউনিয়নের বসতবাড়ি ও কৃষিজমি। চলমান বর্ষা মৌসুমে এ দুটি ইউনিয়নের কোন্ডা, খতিয়া, পাতিলঝাপ, মেলেং, মাতাপপুর, পাড়াগ্রামসহ বেশকিছু গ্রামে দেখা দিয়েছে ব্যাপক ভাঙন। এর ফলে প্রতিনিয়ত মানুষ গৃহহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এলাকার অসংখ্য মানুষ ঘরবাড়ি ভেঙে নিরাপদ স্থানে ছুটে যাচ্ছেন।

এলাকাবাসীর দাবি, এমনিতেই করোনাভাইরাসের কারণে অসংখ্য মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। তারপর মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু নদীতে হারিয়ে চরম বিপাকে দিন কাটাচ্ছেন তারা।

গত মঙ্গলবার সরেজমিন দেখা যায়, নদীর দুপাড়ে কোন্ডা, খতিয়া, পাতিলঝাপ, মেলেং, মাতাপপুর, পাড়াগ্রামসহ বেশকিছু গ্রাম ভাঙনের কবলে রয়েছে। শত শত পরিবার, মসজিদ, মন্দির, বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ভাঙনের মুখোমুখি। অনেকে ভাঙনের কবল থেকে তাদের ঘর অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন।

গৃহবধূ খাদিজা বেগম দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমার বাড়িটুকু ছাড়া আর কোনো জমি নেই। এটা ভেঙে গেলে গৃহহীন হয়ে পড়ব। রাস্তাঘাটে বাস করতে হবে। কৃষক আওলাদ হোসেন বলেন, আবাদি জমি নদীতে ভেঙে যাচ্ছে।

পাড়াগ্রামের বাসিন্দা কেন্দ্রীয় কৃষক লীগ নেতা আবুল হোসেন বলেন, গত এক সপ্তাহে মেলেং গ্রামের ১০টি বসতবাড়ি ও বেশকিছু কৃষিজমি নদীতে চলে গেছে। এভাবে ভাঙতে থাকলে অচিরেই মেলেং ও পাড়াগ্রামের হাটবাজার, মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কালিগঙ্গা নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।

শোল্লা ইউনিয়নর পরিষদ চেয়ারম্যান দেওয়ান তুহিনুর রহমান বলেন, সম্প্রতি নদীতে চলে গেছে পাতিলঝাপ ও কোন্ডা গ্রামের অসংখ্য ঘরবাড়ি। দ্রুত কালিগঙ্গার ভাঙনরোধ করা না গেলে অচিরেই শোল্লা ও কৈলাইল ইউনিয়নের ব্যাপক অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।

নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নাসিরউদ্দিন আহমেদ ঝিলু বলেন, উপজেলা পরিষদ নদীভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করে তাদের কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত