পটুয়াখালীর বাউফলের কেশবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে দুই যুবলীগ কর্মী নিহতের ঘটনায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন লাভলুকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার উপজেলা আওয়ামী লীগের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব হাওলাদার বলেন, বৃহস্পতিবার ১১টায় জনতা ভবনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভায় কেশবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন লাভলুর বিরুদ্ধে দলীয় বিশৃঙ্খলার অভিযোগ ওঠে। এরপর তাকে দল থেকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
একই সঙ্গে দুই কর্মী খুনের মূল কারণ উদঘাটন করার জন্য উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা নুর মোহাম্মদ হাওলাদারকে প্রধান করে ছয় সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এ সময় মনিরুল ইসলাম টিটু কেশবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ বলেন, যারা দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে, দলের নাম ভাঙিয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রমসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে, তাদের বিরুদ্ধে দল উপযুক্ত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে।
আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে গত রবিবার কেশবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সালাউদ্দিন পিকু ও সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন লাভলুর গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। এতে সালাউদ্দিন পিকুর ভাই যুবলীগ নেতা রাকিব উদ্দিন রোমান (৩৪) ও চাচাতো ভাই ইশাত তালুকদার (২৪) নিহত হন।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাকিব উদ্দিন রোমানের বড় ভাই মফিজ উদ্দিন মিন্টু বাদী হয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কেশবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন লাভলুকে প্রধান আসামি করে ৫৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৫ থেকে ১৬ জনের বিরুদ্ধে বাউফল থানায় মামলা করেন।
