আবাসন বদলের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২০, ০৭:৪৫ এএম

কভিড হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সংক্রমণ ঝুঁকি এড়াতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তে পরিবর্তন ও সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের অনিয়ম বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে বিধিনিষেধ আরোপ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুই সিদ্ধান্তকে ঘিরে স্বাস্থ্য প্রশাসনে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে হোটেলে থাকা বাতিলের সিদ্ধান্ত ও ডিউটির সময় বাড়ানোর বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। তারা বলছেন, এতে করোনা প্রতিরোধে সম্মুখসারীর যোদ্ধারা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। তাদের পরিবারের সদস্যদেরও ঝুঁকি বাড়বে।

জনস্বাস্থ্যবিদ, চিকিৎসক ও নার্সদের সংগঠনও সরকারের এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তারা এ সিদ্ধান্তকে অনভিপ্রেত ও অবৈজ্ঞানিক বলে মত দিয়েছেন। তাদের মতে, করোনার সংক্রমণ এখনো কমেনি। ফলে সম্মুখযোদ্ধাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা না গেলে করোনা মোকাবিলা কঠিন হবে। এমনকি এতে চিকিৎসক ও নার্সসহ সব ধরনের স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হবে। তারা কাজ করতে চাইবে না।

বিশেষ করে সাত দিনের জায়গায় টানা ১৫ দিন কাজ করার সিদ্ধান্ত অমানবিক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। তারা বলেছেন, বাংলাদেশের হাসপাতালগুলো অন্য দেশের হাসপাতালের মতো নয়। এখানে এসি নেই। পিপিই পরে এত বেশিদিন কাজ করলে তারা অসুস্থ হয়ে যাবেন।

এ ব্যাপারে জনস্বাস্থ্যবিদ অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই মাহবুব দেশ রূপান্তরকে বলেন, কভিডের চিকিৎসা যারা করেন, তাদের স্ট্যান্ডার্ড প্রটোকল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করেই দিয়েছে। সেভাবেই চলছিল। কিন্তু বাংলাদেশ যদি সেই প্রটোকল ভায়োলেশন করে, সেখানে যদি কেউ দুর্ভোগে পড়ে, তার দায়-দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেই দিয়েছে, চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে, সাত দিন কাজ করবে ও ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকবে, তারপর তারা পরিবারের কাছে যাবে। এটা সরকারের দায়িত্ব, তাদেরই করতে হবে। তা না হলে ফ্রন্টলাইনের কভিডযোদ্ধারা অবশ্যই ঝুঁকিতে পড়বে।

এ বিশেষজ্ঞের মতে, এসব কারণে স্বাস্থ্য খাতে আবার একটা অস্থিরতার ব্যাপার শুরু হলো। সম্মিলিত ও সমন্বিতভাবে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অস্থিরতা নিরোধ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। একে অন্যকে দোষ দিয়ে তো লাভ নেই। এতে ক্ষতি বাড়বে।

ঈদের ছুটির আগে ২৯ জুলাই এক পরিপত্র জারি করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। পরে ২ আগস্ট থেকে পরিপত্র বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরিপত্রে করোনা চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের থাকা, খাওয়া ও যাতায়াত ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী তারা একটানা ১৫ দিন দায়িত্ব পালন শেষে পরবর্তী ১৫ দিন ছুটিতে কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন। তবে এ সময়ে তারা আবাসন সুবিধা পাবেন না। নিজেদের বাসাবাড়িতে অবস্থান করতে হবে। দায়িত্ব পালনকালে তাদের স্বাস্থ্য বিভাগের নির্ধারিত সরকারি ভবনে থাকতে হবে। আবাসিক সুবিধা না নিলে সরকার নির্ধারিত হারে ভাতা পাবেন। হাসপাতাল থেকে সরকার নির্ধারিত আবাসস্থলে যাতায়াতের জন্যও সরকার নির্ধারিত যানবাহন ব্যবহার করতে হবে।

একইভাবে গত মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিবকে লেখা এক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চালাতে হলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে হবে।

অবশ্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সরকারের এসব সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী ও সঠিক বলে মত দিয়েছেন। তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রথমদিকের যে ব্যবস্থাপনা, সেটা আমরা অন্যান্য দেশকে ফলো করছিলাম। তারপর রোগী বাড়তে থাকল অন্যান্য দেশে, তারা কীভাবে কাজ করে সেটা লক্ষ করলাম। তাতে দেখলাম যে মডেলে এখন আমরা কাজ করছি, তাতে লোকের প্রয়োজন অনেক। সাত দিন কাজ করবে আর একুশ দিন থাকবে না, এটাও তো ঠিক না। তাহলে এত লোক কোথায় পাব? সাত দিন কাজ করার পর একুশ দিন যদি না থাকে, তাহলে একুশ দিন পর আবার নতুন একটা ব্যাচ আনতে হবে সাত দিনের জন্য। এরপর সাত দিনের জন্য আবার নতুন ব্যাচ আনতে হবে। এভাবে তিনগুণ লোক লাগে। এত ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী কোথায় পাবে? এটা একটা সমস্যা। পৃথিবীর কোথাও এখন এই ব্যবস্থাপনা চলছে না। ফলে এসব দেখেশুনে আলোচনা করে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, আমরা চেষ্টা করছি এ সিদ্ধান্তকে আরেকটু সহজ করতে। আগামী সপ্তাহে আশা করছি একটা রেজাল্ট দিতে পারব, যাতে কারও কাজ করতে অসুবিধা না হয়। সেবাটাও যাতে ব্যাহত না হয়। ডিউটির সময় ১৫ দিনের জায়গায় একটু কমানোর চিন্তাভাবনা আছে। আবাসনে থাকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হোটেলে ছিল। এখন আর হোটেলে নয়। হোটেলে থাকা নিয়ে অনেক কথাবার্তা হলো। খরচও অনেক বেশি হয়ে যায়। দেশের জন্য অনেক ব্যয়বহুল হয়ে যায়। আবার ভালো-মন্দ হোটেলে থাকা নিয়ে অসন্তোষ। আবার কেউ হোটেল থাকছে না, এরকমও হয়েছে। এটাতে একটা সমতায় আনার জন্য তখন সিদ্ধান্ত হয়েছে আমরা সবাইকে একটা ভাতা দেব। এটার অনুমোদন ইতিমধ্যে করিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন। ফাইন্যান্স থেকেও একটা অনুমোদন পাওয়া গেছে। এখন সমতা চলে এলো। টাকা সবাই পাবে। এছাড়া সরকারি কিছু রেস্ট হাউজ আছে, সেখানেও থাকতে পারবে। এটা একটা ভালো ব্যবস্থা হয়েছে। অনেকে অনেক কথা বলে, সবকিছু জানে না বলে হয়তো বলে।

এসব সিদ্ধান্তের কারণে স্বাস্থ্য প্রশাসনে একটা অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, যখন যেটা প্রয়োজন হবে, সেটা তো সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতেই হবে। কেউ কোনো অন্যায় করলে তার একটা সিদ্ধান্ত হবে।

অভিযান প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা একটা টাস্কফোর্স করেছি। যে কেউ হাসপাতালে ঢুকবে, সেটা তো হবে না। যদি কোনো হাসপাতালের ব্যাপারে কোনো অভিযোগ আসে, সেটা প্রথমে আমাদের বলতে হবে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়ে অভিযান চালাব। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আমাদের লোকও যাবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমরা দুজন মিলেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পরিস্থিতির সঙ্গে সিদ্ধান্ত আসবেই।

এদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এসব সিদ্ধান্তের ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোনো হাত নেই বলে জানিয়েছেন অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. ফরিদ হোসেন মিয়া। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, এটা আমাদের কোনো সিদ্ধান্ত নয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত। তারা পরিপত্র জারি করেছে। তারা আমাদের কপি দিয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সেখানে আমরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে কিছু পরামর্শ সংযুক্ত করে মন্ত্রণালয়কে দিয়েছি। এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে পারব না। এ পরিপত্রে আমাদের কোনো হাত নেই। মন্ত্রণালয়ই সব সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরামর্শ নেওয়া উচিত ছিল কি না জানতে চাইলে এ পরিচালক বলেন, তারা কী করেছে, সেটা তাদের ব্যাপার। এর সঙ্গে আমরা সংশ্লিষ্ট না।

অভিযান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যে নির্দেশনা দিয়েছে, সেই অভিযান ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অভিযান বা পরিদর্শন আলাদা। আমাদের কাছে অভিযোগ এলে আমরা পরিদর্শনে যাই ও যথাযথ ব্যবস্থা নেই। সেখানে আমাদের সঙ্গে অন্য কোনো বাহিনী যায়নি। নতুন নির্দেশনায় আমাদের কোনো সমস্যা হবে না।

তবে চিকিৎসক ও নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের হোটেলে থাকাসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ)। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে গত বুধবার লিখিতভাবে বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন ও মহাসচিব ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী জানান, করোনার শুরুতেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও সমন্বয়হীনতার কারণে অসংখ্য চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন ও তাদের অনেকে অকাল মৃত্যুবরণ করেছেন। মধ্য এপ্রিলের পর সরকারপ্রধানের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতির ক্রমোন্নতিতে আমরা আশার আলো নিয়ে নিরন্তর এক কঠিন সংগ্রামে আস্থাশীল হয়েছিলাম। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে প্রায়ই পরিলক্ষিত হচ্ছে যে, যখনই দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা তার সব স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় প্রবাহিত হয় তখনই মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক দপ্তরের কিছু আকস্মিক ও অবৈজ্ঞানিক আদেশ, পরিপত্র ও নির্দেশনা গোটা পরিস্থিতিকে অস্থির করে তোলে। একটি স্বার্থান্বেষী মহল অত্যন্ত সুকৌশলে চিকিৎসকদের জনগণ কিংবা সরকারের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়।

জারি করা পরিপত্রের ব্যাপারে বিএমএ বলে, পরিপত্রটি আমাদের অবাক ও বিস্মিত করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, পাশর্^বর্তী দেশ কিংবা চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিয়মবহির্ভূত এ ধরনের আদেশে দেশের সব চিকিৎসক ক্ষুব্ধ। অবৈজ্ঞানিক পরিপত্রটি আমরা প্রত্যাখ্যান করছি ও তা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানাচ্ছি। চিঠিতে চলমান অবস্থা বহাল রেখে দ্রুত এ দেশের চিকিৎসকদের একমাত্র জাতীয় সংগঠন বিএমএর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি বিজ্ঞানসম্মত উপায় বের করার আহ্বানও জানানো হয়।

এ ব্যাপারে স্বাধীনতা নার্সেস পরিষদের কেন্দ্রীয় মহাসচিব ইকবাল আহমেদ সবুজ দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমাদের দেশে করোনাকালীন ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের হোটেলে থাকা-খাওয়া নিয়ে যে অব্যবস্থাপনার সৃষ্টি হয়েছে, সে কারণেই সরকার বাধ্য হয়েছে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে। কারণ আমাদের দেশের ভালো কোনো উদ্যোগ আমরা সুন্দরভাবে সমবণ্টনের মাধ্যমে উপভোগ করতে পারি না। প্রতিটি জিনিস নিজের স্বার্থে ব্যবহার করে অন্যদের স্বার্থ নষ্ট করে ফেলি। যেহেতু সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, অবশ্যই ধন্যবাদ জানাই। তবে স্বাস্থ্যকর্মীদের ঝুঁকি হয়ে যাবে। বিশেষ করে আমাদের ঘরের মানুষদেরও ঝুঁকি হয়ে যাবে। যার বড় বাসা আছে, সে হয়তো আলাদা রুমে থাকতে পারবে। কিন্তু যাদের ছোট বাসা ও কম রুম, তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাবে।

বিকল্প কী হতে পারত জানতে চাইলে এ নার্স নেতা বলেন, হাসপাতালের সঙ্গে যে ডরমেটরিগুলো আছে, যেমন নার্সিং ইনস্টিটিউটের হোস্টেল ও মেডিকেল কলেজের হোস্টেল, এগুলোকে কাজে লাগালে সবচেয়ে ভালো হবে। কারণ এখন ছুটি। এসব হোস্টেল ফাঁকা। এখানে তাদের খাওয়া-দাওয়ার একটা ব্যবস্থা করে দিলেই হবে।

ডিউটির সময়সীমার ব্যাপারে ইকবাল আহমেদ সবুজ বলেন, টানা ১৫ দিন ডিউটি রাখা উচিত নয়। কারণ অন্যান্য দেশ ও বাংলাদেশের হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা এক নয়। বাইরের সব হাসপাতালে পুরো এসি। আমাদের সেটা নয়। জেনারেল ওয়ার্ডের হাসপাতাল, সেখানে এসির কোনো ব্যবস্থা নেই। এখানে ১২-১৪ ঘণ্টা পিপিই পরে থাকা খুবই কঠিন। প্রচ- কষ্ট। শরীরের যতটুকু পানি থাকে, সেটুকু পিপিইর ভেতর পড়তে থাকে। সুতরাং ডিউটি আগে যেভাবে ছিল, সেভাবে রাখাই উত্তম। ডিউটির সময় বাড়ানো ঠিক হবে না। তাতে দেখা যাবে ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা যারা একবার ডিউটি করবেন, তারা পরে আর করতে চাইবেন না। তারা শারীরিকভাবে অন্য রোগে আক্রান্ত হয়ে যাবেন।

হাসপাতালের অভিযান প্রসঙ্গে বিএমএ মহাসচিব ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, র‌্যাব-পুলিশ কেন অভিযান চালাবে। অভিযান চালাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অধিদপ্তর যদি মনে করে সাহায্য লাগবে, তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যাবে। এটা তো তাদের বিষয় নয়। এটা সঠিক সিদ্ধান্ত হয়েছে।

জনস্বাস্থ্যবিদ অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই মাহবুব বলেন, স্বাস্থ্য খাতকে পুনর্গঠন করতে হবে। এ খাত সবচেয়ে বিশৃঙ্খলভাবে চলছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অদক্ষতার কারণে। তারা একটা টাস্কফোর্স করেছে। এক মাসের সময় চেয়েছে। দেখা যাক, তারা কী করে। এর মধ্যে তদারকির নামে যদি হাসপাতালগুলোতে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়, তারা যদি হাসপাতাল বন্ধ করে দেয়, তখন চিকিৎসা খাতে কী হবে? আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, স্বাস্থ্য খাতে বিশৃঙ্খলা দূর করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কেই উদ্যোগ নিতে হবে তাদের সেক্টর তারা কীভাবে তৈরি করবে। অন্যরা তাকে সাহায্য-সহযোগিতা করবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত