আনোয়ারায় লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২০, ০৯:২৩ এএম

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় পল্লী বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। ঈদুল আজহার দুদিন আগে থেকেই লোডশেডিং বেড়েছে। তীব্র গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। তবে পল্লীবিদুতের স্থানীয় জোনাল অফিসের দাবি তাদের এলাকায় বিদ্যুতের ঘাটতি নেই।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে গত ২৫ জুলাই ৩৩ কেভি লাইনের সংস্কার করা হয়। এ কারণে ওই দিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখে পল্লীবিদ্যুৎ আনোয়ারা জোনাল অফিস। এর পর থেকেই ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে প্রতিবাদ করছেন সাধারণ গ্রাহকরা।

ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে কম্পিউটার, ফ্রিজ, পানির পাম্প, ফটোকপি মেশিনসহ বিদ্যুৎচালিত যন্ত্রপাতি বিকল হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। চলতি ইলিশের ভরা মৌসুমে বরফ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এলাকার কল-কারখানাগুলোতে। দিন-রাত মিলে অন্তত ১৫-২০ বার বিদ্যুতের আসা-যাওয়া চলছে। কখনো কখনো বিদ্যুৎ চলে গেলে কয়েক ঘণ্টা পর আসে।

পল্লীবিদ্যুৎ আনোয়ারা জোনাল অফিসের আওতাধীন বটতলী রুস্তমহাট সাব-স্টেশনের লাইন ইনচার্জ বোরহান উদ্দিন জানান, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া তারা তাদের সাব-স্টেশন থেকে বিদ্যুৎ বন্ধ করেন না। বাকি যে সময়টুকুতে বিদ্যুৎ থাকে না সেটা অর্থাৎ ৩৩ কেভির নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে নেই।

গ্রাহকদের অভিযোগ, এ উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতের আওতাধীন ঘোষণা করা হলেও সেবার মান বাড়েনি। এই মুহূর্তে উপজেলাবাসীর প্রধান সমস্যা লোডশেডিং। প্রায় প্রতিদিন ৩৩ কেভি লাইনের সমস্যা, গাছের ডালপালা কাটা থেকে শুরু করে ঘোষণা দিয়ে বিদ্যুৎ বন্ধের পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই বন্ধ থাকছে বিদ্যুৎ। সাধারণ গ্রাহকরা এ জন্য উৎপাদনের তুলনায় বেশি সংযোগ ও কর্তৃপক্ষের অবহেলাকে দায়ী করছেন।

চট্টগ্রাম পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতাধীন এ উপজেলায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক মিলে প্রায় ৭০ হাজার সংযোগ আছে। যার জন্য প্রতিদিন পিক ও অফ পিক আওয়ার মিলে ১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। পল্লীবিদ্যুৎ আনোয়ারা জোনাল অফিসের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) বেলায়েত হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রকৃতপক্ষে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই। ঝড়-বৃষ্টির কারণে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে। বিভিন্ন সময় লাইনে কাজ করতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। তাছাড়া ৩৩ কেভি থেকে বিদ্যুৎ বন্ধ থাকলে তা তাদের বিষয় না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত