পাঁচ মাসের একটানা খরায় এ বছর মৌলভীবাজারের চা বাগানগুলোতে লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৬হাজার ১০০ মেট্রিক টন চা কম উৎপাদন হয়েছে। বাংলাদেশ চা গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ চা সংসদ, বাংলাদেশ চা বোর্ড ও বাগান ব্যবস্থাপকদের সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।
বাংলাদেশ চা সংসদের (সিলেট ভ্যালি) চেয়ারম্যান জিএম শিবলী মনে করেন, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে প্রতিটি বাগান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৩৫ থেকে ৪৫ শতাংশ পিছিয়ে রয়েছে। জুন থেকে উৎপাদন কিছু বাড়লেও মূলত প্রথম পাঁচ মাসে তারা পিছিয়ে পড়েন মারাত্মকভাবে।
বাংলাদেশ চা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত বছর চায়ের সর্বকালের রেকর্ড উৎপাদনের পর ২০২০ সালে প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন পর্যন্ত) উৎপাদন হয়েছে ২ কোটি ১৮ লাখ ৯ হাজার কেজি। ২০১৯ সালে প্রথম ছয় মাসে ছিল ২ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার কেজি। একই সময়ের তুলনায় চলতি বছর ৬১ লাখ ৩৯ হাজার কেজি চা কম উৎপন্ন হয়েছে। এ বছর ৭ কোটি ৫৯ লাখ ৪০ হাজার কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মৌলভীবাজারের হামিদিয়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক সিরাজুল ইসলাম জানান, প্রথম পাঁচ মাসে আমাদের বিরাট ক্ষতি হয়ে গেছে। একমাত্র খরার কারণে শুধু মার্চ মাসে বাগানে ৫০ শতাংশ চা উৎপাদন কম হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেরিন চা বাগানের ম্যানেজার সেলিম রেজা।
চা বাগান মালিকরা বলছেন, জুনে এক মাসে ২৫ দিনই বৃষ্টি থাকায় তার প্রভাব পড়বে জুলাই এবং আগস্টের উৎপাদনে। আবার জুলাইয়ে দীর্ঘদিন বৃষ্টি থাকায় তার প্রভাব পড়বে আগস্ট এবং সেপ্টেম্বরে।
বাংলাদেশ চা গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আবদুল আজিজ জানান, রাতে বৃষ্টি এবং দিনে রোদ চা উৎপাদনে নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। আকাশ যত মেঘলা থাকবে উৎপাদন কমার পাশাপাশি লোপারসহ বিভিন্ন পোকার আক্রমণ তত বাড়তে পারে।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের উপপরিচালক (পরিকল্পনা) মুনির আহমেদ জানান, বছরের শুরুর দিকে আবহাওয়া খারাপ থাকলেও এখন অনেকটাই ভালোর দিকে। আশা করছি বছর শেষে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চা উৎপাদন হবে।
সিলেট বিভাগীয় আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ আবহাওয়াবিদ সাইদ আহমেদ চৌধুরী জানান, গত বছরের বৃষ্টিপাতের সময়টা ছিল চায়ের জন্য উপযোগী। এ বছর বৃষ্টি এত বেশি হয়নি কিন্তু দিনে বৃষ্টি হয়ে সূর্য ওঠেনি। এ বছর বৃষ্টির পরিমাণ গত বছরের মতো স্বাভাবিক আছে, শুধু বৃষ্টিপাতের সময়টা চায়ের জন্য ক্ষতিকর ছিল। সামনের আবহাওয়া চায়ের জন্য ভালো হবে বলে তিনি আশা করেন।
