গ্রীড লাইনে ত্রুটি, কমলগঞ্জে দুর্ভোগে ১ লাখ গ্রাহক

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২০, ০৯:৪৭ পিএম

মৌলভীবাজার পল্লী বিদি্যুৎ সমিতি (পবিস) কুলাউড়া গ্রীড লাইনে ত্রুটির কারণে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত বিদ্যুৎবিহীন ছিল মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা ও কুলাউড়া ও রাজনগর উপজেলার একাংশ। ফলে পবিস কমলগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের অধীন ১ লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহক চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০ টায় হটাৎ করে পবিস গ্রীড লাইন বন্ধ হয়ে গেলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়।

পবিস কমলগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, পবিস কুলাউড়া গ্রীড লাইন থেকে কমলগঞ্জ বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়ে থাকে। মাঝে মাঝে কুলাউড়া গ্রীড লাইন বন্ধ করে শ্রীমঙ্গল গ্রীড লাইন থেকে কমলগঞ্জে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। তবে শ্রীমঙ্গল থেকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের পাহাড়ি এলাকা অতিক্রম করে কমলগঞ্জ বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে নানা সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়। এ জন্য পবিস কুলাউড়া গ্রীড লাইনের ওপর কমলগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয় নির্ভরশীল। কুলাউড়া গ্রীড লাইনের ৩৩ হাজার কেভি বিদ্যুৎ লাইনে মাঝে মাঝে ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। সে সময় কমলগঞ্জের বিদ্যুৎ গ্রাহরা সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকেন।

কমলগঞ্জের কয়েকজন গ্রাহক বলেন, গত এক বছর ধরে পবিস কুলাউড়া গ্রীডের ৩৩ হাজার কেবি প্রধান বিদ্যুৎ লাইনে মেরামত ও উন্নয়ন কাজ করা হয়। এসব কাজ করার সময়ে সপ্তাহে কমপক্ষে ২ দিন করে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধা রাখা হয়েছিল। এরপরও পবিসের উন্নয়ন ও মেরামত কাজ শেষ হয়নি। আগাম মাইকিং করে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার কথা জানালেও সুনির্দিষ্ট সময় থেকে আর ২ থেকে ৩ ঘন্টা অতিরিক্ত সময় নিয়ে পরে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হয়। পবিসের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা ও আসা যাওয়ার খেলায় ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও বিদ্যুৎ নির্ভর ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তির শিকারে পরিণত হন। দেশে এখন কোন প্রকার লোডশেডিং থাকার কথা নয়। করোনা সংক্রমণকালে  শিক্ষার্থীরা অনলাইনে লেখাপড়া করলেও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

এ সম্পর্কে পবিস কমলগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের এজিএম (কম) ওবায়দুল হক বলেন, পবিস কুলাউড়া গ্রীডলাইনে ত্রুটির কারণে মঙ্গলবার সকালে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। গ্রীডলাইন মেরামত শেষে কুলাউড়া গ্রীডের আন্ডার গ্রাইন্ড লাইনে ত্রুটি দেখা দেয়। এ ত্রুটি মেরামত করার চেষ্টা করেও মঙ্গলবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা যায়নি। পরে বাধ্য হয়ে আবার শ্রীমঙ্গল গ্রীড লাইন থেকে বেলা ৩টায় কমলগঞ্জে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়। 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত