মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি

৩০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে ওরিক্স বায়োটেক

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২০, ০৭:৪২ এএম

প্লাজমা বিশ্লেষণ কেন্দ্র নির্মাণে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে ২৫ একর জমি বরাদ্দ পেয়েছে ওরিক্স বায়োটেক লিমিটেড। এতে প্রতিষ্ঠানটি বিনিয়োগ করবে ৩০ কোটি ডলার। এ বিষয়ে আগারগাঁওয়ে আইসিটি টাওয়ারে গতকাল মঙ্গলবার ত্রিপক্ষীয় চুক্তি  হয়েছে বলে হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে। বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসনে আরা বেগম, ওরিক্স বায়োটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডেভিড বো এবং হাইটেক পার্কের ডেভেলপার সামিট টেকনোপলিশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু রেজা খান চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে বছরে ১ হাজার ২০০ টন প্লাজমা বিশ্লেষণে সক্ষম প্ল্যান্ট নির্মাণ করতে চায় ওরিক্স বায়োটেক লিমিটেড। এর সঙ্গে ২০টি প্লাজমা সংগ্রহ স্টেশন সংযুক্ত থাকবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ৩০ কোটি ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ ও উচ্চ বেতনের প্রায় ২ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। ফলে  জৈবপ্রযুক্তিতে অনেক দূর এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ, যা ভিশন- ২০২১ বাস্তবায়নে অবদান রাখবে।

উন্নত বিশ্বে (বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, চীন, জাপান) জৈবপ্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার হচ্ছে। মানুষের প্লাজমা থেকে বায়োটেক পণ্য উৎপাদন হয়। এইচআইভি এইডস এবং ক্যানসার রোগের চিকিৎসায় এসব ওষুধ এখন ব্যবহার হচ্ছে।

ওরিক্স বায়োটেক প্লাজমা বিশ্লেষণ কেন্দ্র নির্মাণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ অন্যান্য উন্নত বিশ্বের মান বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের বাজারে বায়োটেক পণ্য সহজলভ্য হবে বলে আশা প্রকাশ করছে হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ। ওরিক্স বায়োটেকের প্রযুক্তিগত সহায়তাকারী হিসেবে রয়েছে চায়না বায়োলজিক্যাল প্রোডাক্ট হোল্ডিং।

অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক জানান, ৩৫৫ একর জমিতে স্থাপিত বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে ৩৭ কোম্পানিকে জায়গা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সেখানে ৫টি কোম্পানি উৎপাদনও শুরু করেছে। তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে ৩২৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে এবং প্রয় ১৩ হাজার জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে হাইটেক পার্কগুলোতে ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে বলে আমরা আশাবাদী।’ আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতে কাজ করেছে আইসিটি বিভাগ। লাইভ করোনা টেস্ট, কভিড-১৯ ট্র্যাকার, টেলিমেডিসিন ও টেলিহেলথ ইত্যাদি উদ্যোগের সুফল পেয়েছে দেশবাসী।

সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আজিজ খান বলেন, সামিট টেকনোপলিসে দেশের সর্বপ্রথম জৈবপ্রযুক্তি শিল্প স্থাপনে ওরিক্সকে স্বাগত জানাতে পেরে আনন্দিত। প্রাক-কভিড পরিস্থিতিতে যখন এই বিনিয়োগের ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করা হয়, তখন প্লাজমা ফ্রাকশানেশন প্ল্যান্ট স্থাপন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল। করোনাভাইরাসের একটি সম্ভাব্য চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে এখন এর তাৎপর্য বহুমাত্রায় উন্মোচিত হয়েছে। ওরিক্স বায়োটেকের চেয়ারম্যান কাজী শাকিলসহ তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত