করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চলে আসায় চিরচেনা রূপ পাওয়ার পথে হাঁটছে ‘ক্যাসিনো ক্যাপিটাল’ নামে পরিচিত ম্যাকাও। চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চলটি ভ্রমণকারীদের জন্য আবার ভিসা ইস্যু শুরু করেছে।
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে অর্থনৈতিকভাবে মারাত্মক ধাক্কা খায় এশিয়া অঞ্চলের জুয়া খেলা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ম্যাকাও। ভুতুড়ে পরিবেশে পরিণত হয় ঝাঁ চকচকে নগরীটি। একেবারে তলানিতে নামে ম্যাকাওয়ে পর্যটকদের সংখ্যা।
বিবিসি’র খবরে বলা হয়েছে, করোনার কারণে ম্যাকাও পর্যটকশূন্য হয়ে পড়লেও ক্যাসিনোগুলো চালু রাখতে প্রতিদিন ১৫ লাখ ডলার খরচ গুণে আসছেন অপারেটররা।
মহামারি পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণ চলে আসায় জুয়ারিদের টানতে বুধবার থেকে পর্যটকদের জন্য ভিসা ইস্যু করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ম্যাকাও কর্তৃপক্ষ। অনেকটা হংকং ঢংয়ে ম্যাকাওকেও নিয়ন্ত্রণ করে থাকে চীন সরকার।
জনবহুল ১০০ কিলোমিটার আয়তনের ম্যাকাওয়ের অর্থনীতি বহুলাংশেই পর্যটন ও জুয়া-ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল। করোনাভাইরাসের কারণে সেখানে বছরের প্রথম প্রান্তিকে আগের বছরের তুলনায় আয় কমেছে ৪৯ শতাংশ।
ম্যাকাও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে ব্যক্তিগত ও গ্রুপ ট্যুরের জন্য চীনের মূল ভু-খণ্ড থেকে পর্যটকদের জন্য ধাপে ধাপে ভিসা ইস্যু করা হবে। কিন্তু যারা চীনের বাইরের পর্যটক, তাদের জন্য ভিসা কবে থেকে চালু করা হবে এ ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি।
এখন পর্যন্ত ম্যাকাউয়ে মাত্র ৪৬ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া গেছে। তবে এদের মধ্যে করোর মৃত্যু হয়নি।
শুরু থেকেই করোনার তেমন সংক্রমণ না থাকায় ১৫ দিন বন্ধ থাকার পর ফেব্রুয়ারিতেই ক্যাসিনোগুলো খোলার অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু পর্যটক না আসায় শূন্য পড়ে আছে ক্যাসিনোগুলো।
ম্যাকাওয়ের মোট বার্ষিক পর্যটকদের ৯০ শতাংশই আসে চীনের মূল ভূ-খণ্ড থেকে। সেখানকার নামকরা ক্যাসিনোগুলো হলো- স্যান্ডস, ওয়াইন, গ্যালাক্সি ও এমজিএম।
