ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়: ৫ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২০, ০৭:৪৪ পিএম

‘ক্রসফায়ারে’ হত্যার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থানার পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

বুধবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে মামলাটি করেন প্রবাসী হারুন মিয়া। জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম জাহিদ হোসেন অভিযোগ আমলে নিয়ে আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপারকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী হারুন মিয়ার বাড়ি আখাউড়া পৌর শহরের মসজিদপাড়ায়। এর আগে গত ৩০ মে একই অভিযোগে প্রতিকার চেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করেছিলেন তিনি।

মামলার আসামিরা হলেন আখাউড়া থানায় কর্মরত এসআই মতিউর রহমান ও হুমায়ুন কবির, এএসআই খোরশেদ এবং কনস্টেবল প্রশান্ত ও সৈকত।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আখাউড়া পৌর শহরের মসজিদপাড়ার বাসিন্দা হারুনের প্রতিবেশী হাসিনা বেগম (চিকুনী বেগম) এবং তার দুই মেয়ে তানিয়া ও তানজিনার সঙ্গে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা দল বেঁধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবার করে আসছে। হারুন প্রতিবেশী চিকুনীর মাদক কারবারে বাধা দেন। চিকুনী এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের হারুনের পেছনে লেলিয়ে দেয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ মে গভীর রাতে অভিযুক্ত পাঁচ পুলিশ সদস্য নাটকীয়ভাবে চিকুনী বেগমকে তার বাড়ি থেকে আটক করেন। পরে ওই পুলিশ সদস্যরা হারুনের বাড়িতে গিয়ে তল্লাশির নামে তাদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন। এ সময় তাকে ক্রসফায়ারে হত্যা ও তার স্ত্রীকে মাদকের মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে পুলিশের সদস্যরা ঘরে থাকা ৪০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন। এছাড়া তারা ঘরের আসবাবপত্র তছনছ করেন।

ওইদিনই ভোর ৪টার দিকে ফের ওই পুলিশ সদস্যরা এসে হারুন ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তারসহ মিথ্যা মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের ভয় দেখিয়ে এক লাখ টাকা দাবি করেন। তা না হলে হারুন দম্পতিকে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কোর্টে চালান দেওয়া হবে বলে হুমকি দেন। তখন হয়রানি থেকে বাঁচতে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হলে তারা হারুন ও তার স্ত্রীকে ছেড়ে দেন। আর চলে যাওয়ার সময় বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হলে হারুনকে ‘ক্রসফায়ারে’ দেওয়া হবে বলে হুমকি দিয়ে যান পুলিশ সদস্যরা।

মামলার বাদী হারুন মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অভিযুক্তরা আমাকে বিভিন্ন সময় ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ধাপে ধাপে টাকা নিয়েছে। তাদের কারণে আজকে আমি বাড়িছাড়া। ন্যায়বিচারের আশায় আদালতে অভিযোগ দিয়েছি।’

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে আখাউড়া থানার ওসি রসুল আহমদ নিজামী বলেন, ‘এটা আগের ঘটনা। পুলিশ সুপারের মাধ্যমে তদন্ত হচ্ছে। তদন্তে যে পুলিশ দোষীসাব্যস্ত হবে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অন্যদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রহিজউদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। ডিবি পুলিশকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে যে দোষী হবে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত