টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোপাল গোস্বামী (৬৫) পায়ে সামান্য ব্যথার কারণে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতিবন্ধী সেজে ভাতা উত্তোলন করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া একই এলাকার জীতেন সূত্রধর (৬২) নামে একজনও নিজেকে প্রতিবন্ধী দাবি করে ভাতা নিচ্ছেন।
পৌরসভা, সমাজসেবা কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছেÑ মির্জাপুর পৌরসভায় এবার নতুন ১১৮ জন প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। এর মধ্যে ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোপাল গোস্বামী ও জীতেন সূত্রধরও রয়েছেন।
পৌরসভা কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত প্রকৃত প্রতিবন্ধী তালিকায় গোপাল গোস্বামীর নাম ১৬ নম্বর ও জীতেন সূত্রধরের নাম ৭৪ নম্বরে রয়েছে। তারা জুলাই-২০১৯ থেকে জুন-২০২০ পর্যন্ত এক বছরে ৯ হাজার টাকা করে ভাতা উত্তোলন করেছেন।
গোপাল গোস্বামী মির্জাপুর সদর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য। তিনি মির্জাপুর পৌর এলাকার আন্ধরা মাঝিপাড়া গ্রামের মৃত খিতিশ গোস্বামীর ছেলে ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। জীতেন সূত্রধর একই ওয়ার্ডের সূত্রধরপাড়ার মৃত নবদ্বীত সূত্রধরের ছেলে। তিনি একজন ফার্নিচার ব্যবসায়ী।
তারা প্রতিবন্ধী না হয়েও প্রতিবন্ধী তালিকাভুক্ত হয়ে ভাতা উত্তোলনের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জীতেন সূত্রধর দাবি করেন, পুত্রবধূ কীভাবে তার নাম প্রতিবন্ধী তালিকাভুক্ত করেছেন তা তার জানা নেই।
তবে ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোপাল গোস্বামী নিজেকে প্রতিবন্ধী দাবি করে বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছিলাম। পায়ে ব্যথা আছে। চিকিৎসকের দেওয়া প্রতিবন্ধী কার্ড আছে কিনা জানতে চাইলে গোপাল বলেন, প্রতিবন্ধী কার্ড না থাকলেও ব্যবস্থাপত্র আছে।
মির্জাপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলম মিয়া ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর শরীফ মাহামুদ জানান, তারা গোপাল গোস্বামীকে চেনেন। তিনি প্রতিবন্ধী হওয়ার মতো কোনো কারণ তাদের জানা নেই। তার প্রতিবন্ধী ভাতা উত্তোলন করা দুঃখজনক।
মির্জাপুর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র চন্দনা দে বলেন, প্রতিবন্ধীদের যাচাই-বাছাই করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় সমাজসেবা অফিস।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল মালেক বলেন, কীভাবে এই জালিয়াতি হলো তা বের করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।
