আশা দেখাবে ক্লিন প্লেট ক্যাম্পেইন

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২০, ০৭:১৬ এএম

করোনাকালে খাবারের অপচয় কমিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে চীন। প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের নির্দেশে হাতে নেওয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ। দেশজুড়ে সেই কার্যক্রম চলছে জোরালোভাবেই। আশা করা হচ্ছে করোনা-উত্তর পরিস্থিতিতে বিশ্বের খাদ্য সংকট মোকাবিলায় ভূমিকা রাখবে এই পদক্ষেপ। 

বিবিসি বলছে, এর আগে প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং বলেন, যে পরিমাণ খাবার নষ্ট হচ্ছে তা ভীতিকর এবং পীড়াদায়ক। তিনি বলেন, করোনা মহামারী খাবার অপচয়ের বিষয়ে আমাদের সতর্কবার্তা শুনিয়েছে। প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যের এরপরই চীনে শুরু হয়েছে ‘ক্লিন প্লেট ক্যাম্পেইন।’

করোনা মহামারীর পর সম্প্রতি চীনের দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে ব্যাপক বন্যাও হয়েছে। এতে বিপুল কৃষি খামার ভেসে গিয়ে নষ্ট হয়েছে লাখ লাখ টন খাদ্যশস্য। এই পরিস্থিতিতে দেশটি খাবার সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন সতর্কবার্তাও শোনা যাচ্ছে। বিপুল পরিমাণ খাবার খাওয়ার দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করা কয়েকজনের কড়া সমালোচনা করেছে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন। পরে প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং এক ঘোষণায় বলেন, খাদ্য নিরাপত্তার সংকট নিয়ে চীনের নাগরিকদের অনুভূতিপরায়ণ হতে হবে।

প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের বার্তার পর উহানের ক্যাটারিং ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন শহরের রেস্টুরেন্টগুলোকে খাবার সরবরাহ সীমিত করার আহ্বান জানিয়েছে। বলা হয়েছে, কোনো গ্রুপে যত মানুষ খাবারের আদেশ দেবে তার চেয়ে অন্তত এক পদের খাবার কম সরবরাহ করতে হবে। তবে ‘এন-১’ নামের এই ব্যবস্থাটির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া কষ্টকর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ চীনা সংস্কৃতিতে মানুষের চেয়ে দ্বিগুণ পরিমাণ খাবারের আদেশ দেওয়া ভদ্রতা বিবেচনা করা হয়। কোনো গ্রুপের কারোর প্লেট শূন্য হয়ে গেলে খারাপ আমন্ত্রণকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সে কারণে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাবারের আদেশ দিতেই অভ্যস্ত চীনারা। ইতিমধ্যেই অনলাইনে ‘এন-১’ সিস্টেমের সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এই সিস্টেমকে ‘খুবই কঠোর’ বলে মনে করছেন। মাইক্রোব্লগিং সাইট উইবোতে এক ব্যক্তি লিখেছেন, ‘কোনো মানুষ একা রেস্টুরেন্টে গেলে কী হবে? কত খাবারের আদেশ দিতে পারবে? শূন্য?’ অন্যরা বলছেন সাধারণত বেশিরভাগ রেস্টুরেন্টই বেশি খাবার নষ্ট করে না। এর পরিবর্তে অসংযত ভোজনে কর্মকর্তারাই বেশি অপচয় করেন। খাবার অপচয় বন্ধের প্রচারণা চীনে এবারই প্রথম নয়। ২০১৩ সালে ‘অপারেশন এম্পটি প্লেট’ চালু করা হয়। যদিও ওই সময়ে কেবল কর্মকর্তাদের অসংযত খাবারের আয়োজনকেই লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়। এক হিসেবে দেখা গেছে, ২০১৫ সালেই দেশটির এক কোটি ১০ থেকে ৮০ লাখ টন খাবার নষ্ট করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত