পাঁচ মাস আগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সেরে ওঠার পর প্রাণঘাতী এই ভাইরাস পরীক্ষায় আবারও পজিটিভ হয়েছেন ফিলিপাইন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এদুয়ার্দো আনো। কিভাবে তিনি ভাইরাসটিতে আবার সংক্রমিত হলেন বিশেষজ্ঞরা তা খতিয়ে দেখছেন বলে এএফপি’র খবরে বলা হয়েছে।
ফিলিপাইনে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাওয়া এদুয়ার্দো জানিয়েছেন, গত সপ্তাহ থেকে ফ্লুজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। শনিবার নমুনা টেস্ট করালে রিপোর্ট আসে পজিটিভ।
এর আগে গত মার্চে প্রথমবার কভিড-১৯ এ আক্রান্ত হন এদুয়ার্দো। তখন রিপোর্ট পজিটিভ আসলেও কোনো ধরনের লক্ষণ দেখা যায়নি।
গবেষণায় দেখা যায়, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বা এই ভাইরাসের লক্ষণ যাদের আছে তাদের শরীরে প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়।
একবার আক্রান্ত হওয়ার পর নতুন করে আক্রান্ত হওয়া ঠেকাতে শরীর যথেষ্ট পরিমাণ ইমিউনিটি অর্জন করতে পারে কি-না; ইমিউনিটি গড়ে উঠলেও তা কত দিন স্থায়ী হয় এ ব্যাপারে বিজ্ঞানীরা এখনো নিশ্চিত কিছু জানাতে পারেনি।
তবে কিছু গবেষণায় দেখানো হয়েছে, যেসব রোগী করোনাভাইরাস থেকে সুস্থ হয়েছেন কয়েক মাস বা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইমিউনিটি হারিয়ে যেতে পারে।
ফিলিপাইনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি মারিয়া রোসারিও ভেরগেইরি জানিয়েছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এদুয়ার্দো আদো দ্বিতীয়বারের মতো আক্রান্ত হয়েছেন কি-না সে ব্যাপারে নিশ্চিত হতে তার লক্ষণগুলো, আগের টেস্টের রিপোর্ট এবং ল্যাবরেটরি রিপোর্টগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে।
“এটাকে পুনঃ-সংক্রমণ না বলা হোক। আবার আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি বিজ্ঞানীরা এখনো গ্রহণ করেননি।”
এদুয়ার্দো আনো প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার আগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেন। সোমবার তাদের বৈঠকে বসার কথা ছিল। তাতে ম্যানিলা ও এর আশপাশ এলাকায় দুই সপ্তাহের লকডাউন আরো বাড়ানো হবে কি-না এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল।
ফিলিপাইনে প্রতিদিনই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত-মৃত্যু বেড়ে চলছে। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৬০ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২,৬০০ এর বেশি মানুষের। আক্রান্ত-মৃত্যুর অধিকাংশই রাজধানী ম্যানিলার।
