ভোটচুরির অভিযোগে প্রেসিডেন্ট অ্যালেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কোকে হটাতে লাখো মানুষের সমাবেশ হয়েছে বেলারুশে।
সোমবার বিরোধী দলীয় নেত্রী সভেতলানা তিখানোভস্কায়া ঘোষণা দেন, তিনি বেলারুশকে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত আছেন।
সেইসঙ্গে নতুন করে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য একটি আইনি ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান করেন তিনি।
আলজাজিরা জানায়, রবিবার বেলারুশের রাজধানী মিনস্কে অন্তত এক লাখ মানুষ সরকার বিরোধী বিক্ষোভে নামে।
প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কোর বিরুদ্ধে ভোটচুরির অভিযোগ এবং নতুন নির্বাচনের দাবিতে দেশটিতে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ।
সোমবার লিথুয়ানিয়া থেকে ভিডিও বার্তায় তিখানোভস্কায়া বিক্ষোভে বাধা না দিতে নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্য ও কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, এখন যদি তারা সরে দাঁড়ায় তাহলে তাদের অতীত আচরণ ক্ষমা করে দেয়া হবে।
গত সপ্তাহে রবিবারের বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে প্রায় ৬ হাজার ৭০০ মানুষ গ্রেপ্তারের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে ও পুলিশি হেফাজতে মারা গেছেন কয়েকজন বিক্ষোভকারী।
আটককৃতদের উপর পুলিশের ভয়াবহ নির্যাতন, মারধর ও ধর্ষণের হুমকির অভিযোগ তুলেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
লুকাশেঙ্কো ক্ষমতায় আছেন একনাগাড়ে ১৯৯৪ সাল থেকে। তাকে বলা হয় 'ইউরোপের শেষ স্বৈরাচার'। তার দাবি, তিনি থাকলে বেলারুশে সরকারের স্থায়িত্ব থাকবে।
নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের ঘোষণায় ৮০ শতাংশের বেশি ভোটের ব্যবধানে জিতেন লুকাশেঙ্কো। বিরোধী সমর্থকরা এই ফল প্রত্যাখান করে এবং ভোটচুরির অভিযোগে বিক্ষোভে নামে। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এ বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়।
তবে প্রধান বিরোধী দলের নেত্রী সভেতলানা তিখানোভস্কায়া সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানান। যদিও নিজে সাত ঘন্টা আটক অবস্থায় থাকার পর মুক্তি পেয়ে পালিয়ে লিথুয়ানিয়ায় আশ্রয় নেন তিনি।
ভিডিও বার্তায় তিখানোভস্কায়া বলেন, আমি রাজনীতিবিদ হতে চাইনি। তবে ভাগ্যই আমাকে স্বৈরাচারি শাসন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সম্মুখভাগে নিয়ে এসেছে।
তিনি বলেন, আমি এই মুহূর্তে দেশের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত এবং জাতীয় নেতা হিসেবে কাজ করতে চাই।
পেশায় একজন শিক্ষক তিখানোভস্কায়ার স্বামী সরকার-বিরোধী ব্লগার। কিন্তু সরকার তাকে জেলে আটকে রাখায় তিনি নির্বাচনে দাঁড়াতে পারেননি। তখন তিখানোভস্কায়া নির্বাচনে দাঁড়ান।
তার জনসভায় বিপুল জনসমাগম হয়। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর থেকে বেলারুশে কোনো জনসভায় এত লোক হয়নি বলে জানা যায়।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, ভোটের আগে এক হাজার ৩০০ জনকে আটক করা হয়। তার মধ্যে নিরপেক্ষ নির্বাচন পর্যবেক্ষকরাও আছেন। ঠিক সময়ে আমন্ত্রণ না পাওয়ায় ইউরোপের অর্গানাইজেশন অব সিকিউরিটি অ্যান্ড কোয়াপরেশনের প্রতিনিধিরা ভোট পর্যবেক্ষণ করতে পারেননি।
