বরগুনার আমতলী উপজেলা চেয়ারম্যানকে অনাস্থা

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২০, ১১:২১ পিএম

ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম ও দলীয় চেয়ারম্যানদের সঙ্গে অসদাচরণসহ ১০ দফা অভিযোগ এনে বরগুনার আমতলী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম সরওয়ার ফোরকানের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়েছেন পরিষদের ১২জন সদস্য।

সোমবার দুপুরে উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে এ অনাস্থা জানানো হয়। পৌর মেয়র, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান, ও উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত অনাস্থা প্রস্তাবের একটি কপি বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার বরাবরে প্রেরণ করেন।

অনাস্থা প্রস্তাবে উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ১০ দফা অভিযোগ আনা হয়। পরিষদের সদস্যবৃন্দ অভিযোগ করেন, উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম সরওয়ার ফোরকান পরিষদের সভায় অনুমোদন ছাড়াই আত্মীয়-স্বজনদের নামে প্রকল্প বরাদ্দ দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত ব্যবসায় গাড়ি ব্যবহার, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ভ্রমণের পরিষদ থেকে বিল উত্তোলন করে আত্মসাৎ, উপজেলা পরিষদের বাসভবন ব্যবহার না করে ভাড়া দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ, টিআর কাবিখায় শতকরা পাঁচ ভাগ উৎকোচ গ্রহণ, দীর্ঘদিন উপজেলার বাইরে অবস্থান করা, উপজেলা পরিষদের সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ না করা, উপজেলা পরিষদ ও ইউপি চেয়ারম্যানদের সঙ্গে অসদাচরণ ও ঋণখেলাপি হয়েও তথ্য গোপন করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা। এসব অভিযোগে তার বিরুদ্ধে উপজেলা পরিষদ আইন ১৩(১) আইনে তাকে অপসারণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিভাগীয় কমিশনারের প্রতি অভিযোগকারীরা আবেদন করেছেন।

এ প্রসঙ্গে আমতলীর পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান বলেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের মূল কাজই হচ্ছে মূলত পরিষদের সদস্যবৃন্দের সঙ্গে সমন্বয় সাধন উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা। তিনি সে দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করে বরং সরকারের বিরোধী কিছু লোকজনকে নিয়ে ইচ্ছামতো তার কার্যক্রম চালান। সমন্বয়হীনতার কারণে আমাদের কাজে সমস্যা হয়। আমরা পরিষদের কার্যক্রমে নানা রকম সমস্যার মুখোমুখি। এভাবে একটি উপজেলা পরিষদ চলতে পারে না। তাই আমরা তার বিরুদ্ধে বিধিমোতাবেক অনাস্থা প্রস্তাব এনেছি।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গোলাম সরোয়ার ফোরকান অনাস্থা প্রস্তাবে আনীত অভিযোগকে ভিত্তিহীন, অসত্য দাবি করে বলেন, এরা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আমার বিরোধিতা করে, যার সূত্র ধরেই হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্য নিয়ে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছে।

বিভিন্ন প্রকল্প থেকে উৎকোচ গ্রহণের বিষয়ে বলেন, যে কোন প্রকল্পের কাজ শেষ হলে সংশ্লিষ্ট যে কর্মকর্তা থাকেন তিনি এবং ইউএনও স্বাক্ষর করার পরে চেয়ারম্যান স্বাক্ষর করেন এখানে কমিশন রাখার অভিযোগ কাল্পনিক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত