করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে মানুষের মুখে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করে আইন জারী করলেও নীলফামারীতে ক্রমেই মাস্কের ব্যবহার কমছে। একই সঙ্গে মানা হচ্ছে না শারীরিক দূরত্বসহ স্বাস্থ্যবিধি। ফলে প্রতিদিনই জেলায় ভারী হচ্ছে করোনাভাইরাস সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রমতে, গত ৭ এপ্রিল থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত জেলায় করোনা রোগী শনাক্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৮১০ জনে। মোট শনাক্তের মধ্যে এ যাবৎ জেলায় ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
গত ৭ এপ্রিল থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত জেলায় ৫৮২ জনের করোনাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্ত হয়। ওই সময়ে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৯ জনে। তবে এক মাসের ব্যবধানে (১৯ জুলাই থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত) সেই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
ওই এক মাসে ১ হাজার ২৫৬টি নমুনা পরীক্ষায় ২২৮ জনের করোনাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে আর মৃত্যুবরণ করেছে ২জন।
এছাড়াও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে, গত এক সপ্তাহে জেলায় নতুন করে ৭৮ জনের করোনাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ আগস্ট ১৪ জন, ১৫ আগস্ট ২ জন, ১৬ আগস্ট ১০ জন, ১৭ আগস্ট ১০ জন, ১৮ আগস্ট ৯ জন, ১৯ আগস্ট ১৬ জন এবং ২০ আগস্ট ১৭ জন।
বৃহস্পতিবার শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ মানুষ মাস্কবিহীন বিভিন্ন বিপণিবিতানে সড়কে চলাচল করছেন। যানবাহনের অধিকাংশ যাত্রীর মুখেও নেই মাস্ক। আবার মাস্ক সঙ্গে থাকলেও অনেকেই রেখেছেন শার্ট বা প্যান্টের পকেটে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ডোমার থেকে ব্যক্তিগত কাজে জেলা শহরের কালীবাড়ি মোড়ে এসেছিলেন ময়নুল হক (৩৫)। মাস্ক না পরার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার মাস্কটা পুরোনো হয়ে গন্ধ হয়েছে, তাই ফেলে দিয়েছি। শহরে এসেছি, এখন কিনবো।’
মড়াল সংঘ মড়োরের দর্জি দোকানের কর্মচারী মাস্ক ছাড়া ঘুরে বেড়াচ্ছিলন ওই মোড়ে। এ সময় তাকে মাস্ক ছাড়া ঘোরার কারণ জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘মসজিদে নামাজে গেছিলাম, তাই মাস্ক সাথে নেইনি, এখন দোকানে গিয়ে পরবো।
এদিকে বিভিন্ন বিপণিবিতানে জনবহুল এলাকায় আগের যেভাবে শারীরিক দূরত্বসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে মানুষের আনাগোনা লক্ষ্য করা গেলেও এখন সেটির বালাই নেই। কেউ মানছেন না শারীরিক দূরত্বসহ স্বাস্থ্যবিধি। এমন দৃশ্য দেখা গেল শহরের চৌরঙ্গী মোড় থেকে বড়বাজার পর্যন্ত সকল বিপণিবিতান, বাজারসহ জনবহুল স্থানগুলোতে।
এ বিষয়ে সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি তাহমিনুল হক বলেন, ‘মানুষজন মাস্ক ছাড়াই অবাধে চলাচল করছেন। কেউ মানছেন না শারীরিক দূরত্বসহ স্বাস্থ্যবিধি। এই দৃশ্য জেলা ও উপজেলার শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সামাজিক সচেতনতার পাশাপাশি আইনের প্রয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।’
বিষয়টি নিয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এলিনা আকতার বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিদিনই শহরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন। জরিমানা করে তাদের মাস্ক পরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তারপরেও মানুষ আইন মানছেন না।
তিনি বলেন, শুধু আইন দিয়ে সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব না। আইনের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে।
